পূর্ব রেলে টয়লেট ইজারায় যোগসাজশে প্রতারণা—অনিয়ম!


১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:৩০ : পূর্বাহ্ণ

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নতুন স্টেশনের টয়লেট ইজারার দরপত্র বিজ্ঞপ্তি নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ঠিকাদার।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোছাইন ও উচ্চমান সহকারী নজরুল ইসলামের যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে এই ইজারা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দেওয়া ওই আবেদনে অভিযোগকারী মেসার্স এম.আর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. মাহবুবুর রহমান নিলাম কার্যক্রম স্থগিত রেখে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন তিনি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশল (ডিইএন-১) অফিস সূত্র জানায়, গত ১৫ই সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নতুন রেলস্টেশনের টয়লেট ইজারা দেয়ার জন্য প্রথমবারের মতো বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ইজারায় অন্তর্ভুক্ত ছিল ৬টি টয়লেট, ৩টি অজুখানা, ২টি প্রস্রাবখানা ও কয়েকটি বেসিন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোছাইন গত ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নতুন স্টেশনের গণশৌচাগার ইজারা কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য একটি ‘ইজারা দরপত্র বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তিটি ১২ জানুয়ারি প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) দপ্তরের ডেসপাস শাখায় গৃহীত হয়।

তবে অভিযোগে বলা হয়েছে, এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই দুটি জাতীয় দৈনিকে একই দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। বিষয়টি আরও সন্দেহজনক, কারণ ওই পত্রিকাগুলোর বাংলা ও ইংরেজি উভয় সংস্করণের অনলাইন ভার্সনে এই বিজ্ঞপ্তির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা যোগসাজশে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম নতুন স্টেশনের গণশৌচাগার ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, কোনো একটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে, যা দেশের প্রচলিত আইন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ) ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০২৫-এর পরিপন্থী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধের শামিল। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইজারা বিজ্ঞপ্তির সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় প্রকৌশলী (১) আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোছাইনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

জানা যায় —নোয়াখালী লাকসাম রেলগেইট সংস্কার কাজে ঠিকাদার নিয়োগে জালিয়াতি ও অনিয়ম, যা বাস্তবায়ন হচ্ছে এই ডিইএন-১ প্রকৌশলী আবু রাফির তত্ত্বাবধানে, রেলওয়ে পাহাড়তলী সরঞ্জাম ক্রয় দপ্তরের অফিস ভবন পুনঃনির্মাণ কাজ, যা বাস্তবায়ন হচ্ছে-ডিইএন-২ প্রকৌশলী জিশান দত্ত এবং চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে সংগৃহীত আমীমাংসিত রেলবিটের স্ক্র্যাপ পাচার, যা ডিইএন-৩ ও সেতু প্রকৌশলী রিয়াসাদ ইসলামের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

তবে অভিযোগকারীর দাবি, পত্রিকায় প্রকাশিত ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে বিভাগীয় প্রকৌশলীর স্বাক্ষরের তারিখ ১ জানুয়ারি, যা ৬ জানুয়ারি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে, প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) দপ্তরে জমা দেওয়া অনুলিপিতে স্বাক্ষরের তারিখ দেখা যায় ১১ জানুয়ারি।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, গত দেড় বছর ধরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ এর চেয়ারে বসে রেলওয়ে সংস্কার কাজের টেন্ডার জালিয়াতি করে একের পর এক দূর্নীতি করে চলেছেন তিনি। প্রতিবছর অর্থবছরে এপিপির ৩০-৩৫ কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে ১০% হারে কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছেন এই প্রকৌশলী।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. তানভিরুল ইসলামকে কল দেওয়া হলে তার মোবাইল সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এসএস/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ