চট্টগ্রামের পটিয়ায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান আসামি এবং সাবেক হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, হুইপ পুত্র শারুন, হুইপের ছোট ভাই মহব্বত, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক পৌর মেয়র, ১৫ সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর কাউন্সিলর সহ ১৩৮ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ির বকসুর ছেলে মো. বাবু বাদি হয়ে পটিয়া থানায় এ বিস্ফোরক মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলায় পটিয়ার সাবেক দুই সংসদ মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, সামশুল হক চৌধুরী, তার ছোট ভাই মোহাম্মদ ফৌজলুল হক চৌধুরী প্রকাশ মহব্বত, হুইপ পুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল আলম, সাবেক পৌর মেয়র আইয়ুব বাবুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.ক.ম সামশুজ্জামান চৌধুরী, কোলাগাঁও ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চৌধুরী, হাবিলাসদ্বীপ ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ফৌজুল কবির কুমার, কুসুমপুরা ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান জাকারিয়া ডালিম, জিরি ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম খান টিপু, আশিয়া ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান এম এ হাশেম, জঙ্গল খাইন ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সবুজ, বড়লিয়া ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান শাহিনুল ইসলাম শানু, কেলিশহর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান সরোজ কান্তি সেন নান্টু, ধলঘাট ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান রণবীর ঘোষ টুটুন, হাইদগাঁও ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান বদরুউদ্দিন মো. জসিম প্রকাশ বিএম জসিম, দক্ষিণ ভূর্ষি ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম, ভাটিখাইন ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মো৷ বখতিয়ার উদ্দিন, কচুয়াই ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ইনজামুল হক জসিম, খরনা ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান, শোভনদন্ডী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মো. এহসানুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছৈয়দ, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল খালেক, সাবেক পৌর কাউন্সিলর প্রকৌশলী রুপক কুমার সেন, গোফরান রানা, গিয়াস উদ্দিন আজাদ, জসিম উদ্দিন, শফিউল আলম, শেখ সাইফুল ইসলাম, সরওয়ার কামাল রাজিব, আ. লীগ নেতা লিটন বড়ুয়া, ডি এম জমির উদ্দিন, মোজান্মেল হক লিটনসহ ৬৮ জনকে এজাহার ভুক্ত আসামি করে আরো ৬০/৭০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. বাবু এজাহারে উল্লেখ করেছেন, গত ৫ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের কুরাঙিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার ওপর আসামিরা বাদীর ওপর বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে পথরোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে জখম করে এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অপমান ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া। এ সময় আসামিরা নগদ ৫ হাজার ১শ টাকা নিয়ে যায় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, উপজেলাজুড়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে গুঞ্জন উঠেছে গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর পটিয়ায় বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় দুই সাবেক সংসদ সদস্যসহ আ. লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মীরা মামলার আসামি হলেও পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শোভনদন্ডী ইউনিয়নের নাছির উদ্দিন কোন মামলার আসামি হননি।
এর কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, নাছির উদ্দিনের ছোট ভাই সাইফুদ্দিন পটিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হওয়ার কারণে তাকে কোন মামলায় আসামি করা হচ্ছে না। বিগত সতের বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে আ. লীগ নেতা নাছির উদ্দিনের ছোট ভাই বিএনপি নেতা সাইফুদ্দিনকেও বিএনপির কোন মামলায় আসামি করা হয়নি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আ. লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, নাছির উদ্দিন সাবেক এমপি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ ও হামলার সময় ছিলেন। নাছির উদ্দিন সবসময় মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী সাথে থাকতেন। সবাই যখন একে এক মামলার আসামি হচ্ছে তখন নাছির কেন বাদ পড়ছেন- এ প্রশ্ন এখন তাদের। এভাবে এক ভাই আরেক ভাইকে মামলা থেকে বাঁচিয়ে দলের ভেতর বৈষম্য সৃষ্টি করছেন।
পটিয়া থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, মঙ্গলবার রাতে থানায় একটি বিস্ফোরক আইনে মামলা রজু করা হয়েছে। মামলায় ৬৮ জনকে এজহার ভুক্ত আসামি ছাড়াও আরো ৬০/৭০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযানের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসএস/এমএফ