চট্টগ্রামে স্ক্যাপ জাহাজ আমদানির নামে শত কোটি টাকা আত্মসাতের দুর্নীতি মামলায় মজিবুর রহমান মিলন নামে এক শিপইয়ার্ড মালিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ মুনসী আবদুল মজিদ এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের ভারপ্রাপ্ত ব্যঞ্চ সহকারী হিমেল শেখ। তিনি জানান, আসামি মজিবুর রহমান মিলনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় যাবজ্জীবন ও ১০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ৪২০ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। উভয় সাজা এক সঙ্গে চলবে বলে আদালতে রায়ে উল্লেখ করেছেন।
দন্ডিত মজিবুর রহমান মুহিব স্টিল অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী। তিনি ফেনী জেলার দাগনভূঁয়ার দক্ষিণ আলীপুর গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে।
আদালত সূত্র জানায়, স্ক্যাপ জাহাজ আমদানির নামে অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রামের লালদিঘি করপোরেট শাখা থেকে কয়েক দফায় অর্ধশত কোটি টাকা ঋণ নেন মজিবুর রহমান মিলন। ব্যাংকের পাওনা মোট ৯১ কোটি ৯২ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯২ টাকা পরিশোধ না করে তিনি স্বপরিবারে আত্মগোপন করেন। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৪ মে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাফর আহমদ।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আসামি মজিবুর রহমানকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মুনসী আবদুল মজিদ এর আদালত। দুদক দশ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছেন।
এসএস/এমএফ