চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের খোলা নালায় পড়ে নিপা পালিত নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে নগরের পাহাড়তলীর ইসলামিয়াহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ২১ বছর বয়সী নিপা পালিত হাটহাজারী কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
নিপার ফুফাত ভাই জয় ঘোষ বলেন, ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল আমার বোনের। পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছে ফটিকছড়ির নাজিরহাট কলেজে। সকালে পরীক্ষা দিতে বের হওয়ার পর আমরা খবর পেয়ে বাড়ির সামনের সড়কে পানিতে ভাসমান অবস্থায় নিপার মরদেহ দেখতে পাই। সেখানে কোমর সমান পানি ছিল।
তিনি আরও বলেন, নিপার মৃগী রোগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে পানি পার হওয়ার সময় মৃগী রোগের কারণে ডুবে যায়। খবর পেয়ে হাটহাজারী থানা পুলিশ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
থানার পরিদর্শক নুরুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, বাড়ির সামনের সড়কে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু অস্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ায় আমরা মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি।
এর আগে–২০২১ সালের ৩০ জুন থেকে এ পর্যন্ত এক শিশু ও দুই নারীসহ ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পা ভেঙেছে অনেকের। এরপরও খাল ও নালার ওপর স্ল্যাব বা ঢাকনা দিয়ে জনসাধারণের চলাচল নিরাপদ করতে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তদারকি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।
নগরবাসীর মতে, চসিকের খাল ও নালাগুলোর অধিকাংশই খোলা। যেখানে ঢাকনা বা স্ল্যাব আছে সেগুলো দোকানপাট ও মার্কেটের অবৈধ দখলের ফসল। তাদের ব্যবসার স্বার্থে এসব ঢাকনা বা স্ল্যাব দেওয়া হয়েছে। অথচ এসব খোলা খাল বা নালার পাশ দিয়ে চলাচল করতে হয় জনসাধারণকে। তাতে কোথায় খাল, কোথায় নালা তার কোনো মার্কিংচিহ্ন বা নিরাপত্তা দেয়াল নেই কোথাও।
এ অবস্থায় নগরীতে বৃষ্টি বা প্রবল জোয়ার হলে নালা ও খালগুলো উপচে পানি সড়কেও টলমল করে। এতে একাকার হয়ে যায় খাল-নালা ও সড়ক। ফলে ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে খাল ও নালায় পড়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এমনকি বৃষ্টি ছাড়াও অসাবধানতাবশত হাঁটতে গিয়ে খাল ও নালায় পড়ে মারা যাচ্ছে মানুষ।
এসএস