নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেটে জিম্মি চট্টগ্রাম বিআরটিএ!


১০ জুন, ২০২৩ ২:৩৬ : পূর্বাহ্ণ

দালাল আর কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর লাগামহীন অবৈধ আয়ের উৎস্যে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম বালুছড়া অফিস। অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়া ছাড়াও নানা কলাকৌশলে গাড়ি মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের জিম্মি করার এন্তার অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে।

এদের মধ্যে আবার দাপট বেশি অস্থায়ী অফিস পিয়ন নুরুল ইসলামের। এই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী কেউও খালি হাতে ফিরেন না সন্ধ্যা হলে, পকেটে- বিকাশে নতুবা তাদের নিদিষ্ট ব্যাংক একাউন্টে টাকা ডুকলেই আর কি লাগে। এইতো শান্তি। তবে নুরুল ইসলামের ফিরিস্তি অবাক হওয়ার মতো।

সরেজমিন বিআরটি ঘুরে দেখা যায়, সংঘবদ্ধ দালাল চক্র ছাড়া গাড়ি মালিকের পক্ষে যেমন সরাসরি বৈধ কাগজ পাওয়া সম্ভব হয় না, তেমনি গাড়ির রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে নানা কাজে গ্রাহকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বেলায় কোন রাখঢাকেরও ধার ধারে না নুরুল ইসলামরা।

দোর্দণ্ড দাপুটে দালালরা হলেন- প্রবীর পাল, জুয়েল, সোহেল, নুরুল ইসলাম, জামাল, সেলিমসহ অনেকে। এদিকে পরিচালক (ডিডি), সহকারী পরিচালক (এডি), মোটরযান পরিদর্শক, উচ্চমান সহকারী, মেকানিক্যাল অ্যাসিসটেন্টসহ অফিস সহকারীরাও জড়িয়ে পড়েছে নানা অপকর্মে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরিচালক (ডিডি) তৌহিদ হোসেনের বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে উঠেছেন এ অফিসের বহু অপকর্মের জন্মদাতা পিয়ন নুরুল ইসলাম। দুই দশক ধরে এখানে দালালি করে গড়েছেন ঘর-বাড়ি, কিনেছেন জমি-জমা, থাকেন মনছুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসের পাশে আলিশান ফ্ল্যাটে।

নতুন কোন পরিচালক-সহকারী পরিচালক এলেই পিয়ন নুরুল ইসলামরা তাকে সাধারণ গাড়ি মালিক ও চালকদের কাছ থেকে উৎকোচ নেওয়ার বিভিন্ন কৌশল অবহিত করেন। স্থানীয় প্রভাব আর উৎকোচের কৌশল দু’য়ে মিলে পিয়ন নুরুল ইসলাম যেন বালুছড়া বিআরটিএ অফিসের সব।

এই নরুল ইসলামের সংঘবদ্ধ দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লাগামহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও রয়েছে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। ডিডি তৌহিদ হোসেনের ক্ষমতায় এতই বেপরোয়া নুরুল ইসলাম এখনো পর্যন্ত থাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

সকালের-সময়ের অনুসন্ধানে জানা যায়, অফিসে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে যিনি ঘুষ দেন তারই কাজ হয় তাড়াতাড়ি। আর কেউ ঘুষ না দিলে অনেক প্রতিবন্ধকতা দেখিয়ে বিদায় করা হয় সেবা প্রত্যাশীদের। এমন অনিয়মের আওতায় গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করতে গাড়ির সঙ্গে ব্যক্তির সশরীরে বিআরটিএ কার্যালয়ে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত টাকা বা ঘুষ দিলে তার দরকার হয় না। এর ব্যতিক্রম হলে আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে করা হয় নানা রকম হয়রানি।

অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে জানতে নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তার কল রিসিভ করে চট্টগ্রাম প্রতিদিনের ডাইরেক্টর পরিচয় দেন এক দালাল। পরে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারলাম লালিয়ার হাটের বাসিন্দা বিআরটিএর দালাল জনৈক ফোরকান প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করেছিলেন। পরে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিউজ করলে সমস্যা হবে বলে লাইন কেটে দেন।

এবিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম বিআরটিএ পরিচালক তৌহিদুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল সংযোগ পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএ অফিসে কর্মরত দুই বহিরাগত যুবক জানান, গাড়ির ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ি রেজিষ্ট্রেশনসহ বিভিন্ন কাজে নুরুল ইসলামকে টাকা দিয়ে করতে হয়, না হয় সেই পরিচালক দিয়ে হয়রানি করবে মর্মে হুমকিও দেন। নিরুপায় হয়ে তাকে অথবা তার সিন্ডিকেট দিয়ে কাজ করাতে হয়। এক প্রকার এই সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে আছি।

উল্লেখ্য—জনসাধারণ সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে প্রত্যাশিত সেবার পরিবর্তে শিকার হচ্ছে হয়রানির। এই বিষয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযান ও দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা ।

প্রিয় পাঠক— নুরুল ইসলাম ও তার সিন্ডিকেটের আরও ফিরিস্তি দ্বিতীয় পর্বে দেখুন।

এসএস

0Shares

আরো সংবাদ