ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগকে ঘিরে রাজধানী তেহরানে সরকার সমর্থকদের বড় ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরই ধারাবাহিকতায় তার পুত্র মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে তেহরানের একটি কেন্দ্রীয় চত্বরে লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়ে নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা মোজতবা খামেনি ও তার বাবার ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করেন। একটি প্ল্যাকার্ডে আলী খামেনিকে তার পুত্রের হাতে পতাকা তুলে দিতে দেখা গেছে, যা ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তেহরানের রাস্তায় সরকার সমর্থকরা আনন্দ মিছিল করেছেন এবং নতুন নেতার আগমনকে স্বাগত জানিয়েছেন। সমাবেশে বক্তারা মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরানের ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এবং প্রয়োজনে শহীদ হওয়ার তামান্না প্রকাশ করেছেন।
তবে এসব আনুষ্ঠানিকতার বাইরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিবিসি পার্সিয়ানের সাথে আলাপকালে কয়েকজন ইরানি নাগরিক নতুন এই নেতা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
একজন অংশগ্রহণকারী বিবিসি পার্সিয়ানকে বলেন, তিনি ‘তার বাবার চেয়েও খারাপ হবেন’ বলে আমরা আশঙ্কা করছি। আরেকজন বলেন, তার পরিণতিও যেন তার বাবার মতোই হয়-এমনটাই কামনা করছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণার পর থেকেই দেশটির অভ্যন্তরে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃত্বের এই বংশগত ধারা অব্যাহত রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ।
এসএস/এমএফ