দোহাজারীতে গ্রীষ্মকালীন সবজির বাম্পার ফলন


২ মে, ২০১৯ ১:৫৩ : পূর্বাহ্ণ

সকালেরসময় রিপোর্ট:: চট্টগ্রাম দোহাজারী এলাকায় গ্রীষ্মকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ১ লাখ ১০ হাজার টন গ্রীষ্মকালীন সবজি উৎপাদন করছেন জেলার কৃষকরা। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বরবটি, চাল কুমড়া, পটোল, চিচিঙ্গা, লাউ, শসা, ক্ষীরা, ডাঁটা, ঝিঙ্গা, করলা, কলা, পেঁপে, ধুন্দল, বেগুনসহ প্রায় ২৮ প্রজাতির গ্রীষ্মকালীন সবজির চাষ করা হয়। গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ১৯ টন সবজি উৎপাদন করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর জেলায় গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে, যার বিপরীতে ফলন ধরা হয় ১ লাখ টনের কিছু বেশি। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সবজির আবাদ করায় উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ সাড়ে ২০ হাজার টন।

সূত্র আরো জানায়, চাষীরা বেশি আয়ের আশায় বাজারে চাহিদা রয়েছে এমন সবজির বেশি চাষ করে থাকেন। তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে বেগুন, শসা, মিষ্টিকুমড়া, তিত কড়লা, পাট শাক, লাউ, ঢেঁড়স, মুলা, লালশাক। স্থানীয় চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী কিছুদিনের মধ্যে শীতকালীন সবজি চাষের দিকে ঝুঁকবেন তারা। যদিও আগাম কিছু শীতকালীন সবজি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ওই সবজিগুলো শীতের নয় বলে স্বাদও কম। সে সঙ্গে চড়া দাম দিয়ে কিনতে হয় ক্রেতাদের।

জানান, এলাকার চাষীরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশায় রেল স্টেশনের পাশে সবজির হাট বসানো হয়। বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে এই হাট থেকে সবজি সংগ্রহ করে নিয়ে যান। এতে একদিকে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন, অন্যদিকে কৃষকদের পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বাড়ছে।

স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, দোহাজারীতে সারা বছরই বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ করা হয়। শীতকালে সবচেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন করা হলেও এ বছর গ্রীষ্মকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার মিষ্টি লাউয়ের ভালো ফলন হয়েছে। লাউ চাষে বেশি বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয় না। তবে মুখিকচু, বেগুন চাষে কিছুটা হলেও পানির প্রয়োজন হয়। এসবে পানি কম হলে ভালো ফলন হয় না। আবার ভালো ফলন হলেও বাজারে এসব সবজির দাম কম থাকে।

 

বছরজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির সবজির চাষ করেন চাষীরা। তবে এবার কম খরচে শসার উৎপাদন ভালো হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের পরামর্শ নিয়ে জেলার চাষীরা রেকর্ড পরিমাণ গ্রীষ্মকালীন সবজির উৎপাদন করেছেন। এরই মধ্যে দোহাজারীতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজির চাষ শুরু করেছেন জেলার কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে চাষীদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

0Shares

আরো সংবাদ