ব্যাংকের সামনে ডাকাতি: নেপথ্যের নায়কদের খুঁজছে পুলিশ


৩ অক্টোবর, ২০২০ ১২:০৬ : পূর্বাহ্ণ

যশোরে ব্যাংকের সামনে ১৭ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনার নেপথ্যের নায়কদের পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। এদের কেউ কেউ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকেন। যশোরের অনেক অপরাধের নিয়ন্ত্রকও তারা। ডাকাতির ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তাদের নাম আসায় প্রশাসন আরো অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এই গ্রুপটি নানাভাবে যশোরকে অশান্ত করে রেখেছে বলে পুলিশ ধারনা করছে।

এদিকে এই মামলার তিন সাক্ষী শুক্রবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাদী হাসান তাদের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেছেন। জবানবন্দিতে তিনজন ডাকাতি করা টাকার ভাগাভাগি সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করেছে বলে জানা গেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তুষার কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, টাকা ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় আর কোন আসামি আটক হয়নি। এই মামলার তিন সাক্ষী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদেরে তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনার সাথে আর কারা জড়িত তাদের শনাক্তের তদন্ত চলছে। ওই তিনজন হলো পূর্ববারান্দী মোল্লাপাড়া খালপাড় এলাকার শাহজাহানের তিন ছেলে কালু, বিল্লাল ও শুকুর।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার দিন ব্যাগভর্তি টাকা কেড়ে নেয়ার পর আরাফাত নামে এক সন্ত্রাসী বারান্দীপাড়ার দিকে চলে যায়। বারান্দী মোল্লাপাড়া এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এই ঘটনার সাথে জড়িত। আরাফাত সরাসরি ওই টাকা নিয়ে কালুর বাড়িতে ওঠে। কালুর বন্ধু আরাফাত। সেই সূত্রে সেখানে উঠে ওই টাকার একটি ভাগাভাগি হয়। পরে টাকার বাকি অংশ ভাগ হয় অন্য স্থানে।

সূত্রমতে, টাকার ভাগ কারা পেয়েছে এবং ডাকাতরা ওই টাকা নেয়ার পর কোন নেতা বা প্রভাবশালীর প্রশ্রয় পেয়েছিলো সে সম্পর্কে পুলিশ অবহিত। টাকার ভাগ পাওয়াদের মধ্যে শহরের মন্ডলগাতী এলাকার এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মোল্লাপাড়া এলাকার এক পরিবহন শ্রমিক নেতার ছেলে, তাঁতী লীগের নেতা পরিচয়দানকারী এক দুর্বৃত্ত (যিনি এক সাংবাদিক নেতাকে লাঞ্ছিত করে আলোচনায় আসেন), একটি ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেতা, মোল্লাপাড়া এলাকার এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীর (দেশের বাইরে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রক) ভাই, আত্মীয়সহ বেশ কয়েকজন রয়েছে।

পুলিশ তাদের বিষয়ে আরো খোঁজ খবর নিচ্ছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে। এই ডাকাতির নেপথ্যের নায়কদের আটক করতে পারলে মামলায় পুলিশের সফলতা আসবে বলে মনে করছে সূত্রটি।

সকালের-সময়/কাইছার

0Shares

আরো সংবাদ