সকালেরসময় রিপোর্ট :: আরো একটি মৃত ডলফিন ভেসে উঠলো হালদায়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাউজানের কাগতিয়া আজিমের ঘাট এলাকায় মৃত ডলফিনটি ভেসে ওঠে। প্রায় এক মণ ওজনের ডলফিনটির দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুটের কম নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণি বিদ্যা বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত ২, ৫ ও ২০ জানুয়ারি গড়দুয়ারা এলাকা থেকে তিনটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে হালদা থেকে চারটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হলো।
এভাবে একের পর এক ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্টরা। জরুরি ভিত্তিতে ডলফিনের এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হুমায়ুন কবির বলেন– একের পর এক ডলফিনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই হালদা হয়তো ডলফিন শূন্য হয়ে পড়তে পারে। তাই ডলফিনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জীবিত ডলফিনের পরীক্ষা–নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া জরুরি।
বর্জ্যসহ বিভিন্ন ভাবে হালদা দূষণ হচ্ছে উল্লেখ করে এই শিক্ষক বলেন, নদীতে প্রতিনিয়ত বর্জ্য নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। এসব বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে চা বাগানে ব্যবহৃত বিষাক্ত ক্যামিক্যালও। তাছাড়া শিল্পসহ মানব সৃষ্ট বিভিন্ন ধরণের বর্জ্য তো আছেই। নদীর জলজ প্রাণি রক্ষায় অবিলম্বে এ দূষণ প্রতিরোধের উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলেও অভিমত দিয়েছেন তিনি।
জলযানের আঘাতে বা অসুস্থতার কারনে বিরল প্রজাতির এ ডলফিনের মৃত্যু হতে পারে বলে মনে করেন হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজাহারুল আলম।
অন্যদিকে, আগে উদ্ধার করা তিনটির তুলনায় বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা ডলফিনের আকৃতি ছোট বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিভাগের অধ্যাপক মো. মনজুুরুল কিবরিয়া। মৃত ডলফিনটির শরীরে দুটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে জানিয়ে দ্রুত এসব ডলফিন মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করা জরুরী বলে মন্তব্য করেন তিনি।