স্বীকৃতি না দেওয়ায় চট্টগ্রামে আইনজীবী খুন


২৮ নভেম্বর, ২০১৭ ৬:১৯ : পূর্বাহ্ণ

সকালেরসময় প্রতিবেদক :: চট্টগ্রামে আইনজীবী ওমর ফারুক বাপ্পী হত্যার রহস্য পাওয়া গেছে। মাদক মামলার রাশেদার স্বামী দেলোয়ার হোসেন জেলে যাবার পর তার জামিন নিতে গিয়ে স্ত্রী রাশেদা যোগাযোগ করেন বাপ্পীর সঙ্গে। সেই সম্পর্কের সূত্রে বাপ্পী গোপনে বিয়ে করেন রাশেদাকে, কিন্তু স্বীকৃতি দেননি। স্বীকৃতি না দেওয়ার জেরে কৌশল বন্ধু হুমায়ূনকে নিয়ে বাপ্পীকে খুন করে ফেলেন রাশেদা, সঙ্গে ছিলেন আরো চারজন। সোমবার সকালে হত্যাকাণ্ডে জড়িত গোপনে বিয়ে করা স্ত্রীসহ আটক ৬ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

আটকরা হলেন স্ত্রী রাশেদা বেগম (২৭), হুমায়ূন রশীদ (২৮), আল-আমিন (২৮), মো. পারভেজ প্রকাশ আলী (২৪), আকবর হোসেন প্রকাশ রুবেল (২৩) এবং জাকির হোসেন প্রকাশ মোল্লা জাকির (৩৫)।

এ বিষয়ে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মেট্রো) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, স্বামীর জামিন নিতে গিয়ে স্ত্রী রাশেদা যোগাযোগ করেন বাপ্পীর সঙ্গে। সেই যোগাযোগেই গোপনে নিয়ে হয় তাদের। পরে বাপ্পীকে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবার মেয়ে খুঁজছিল। বিষয়টি শুনে রাশেদা সামাজিক ও পারিবারিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন। বারবার চেষ্টা করেও বাপ্পীর কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায় করতে না পেরে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেন রাশেদা। কাবিননামার টাকা বাড়িয়ে বাপ্পীকে বাধ্য করার কৌশল নেন। সেই কৌশল বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বন্ধু হুমায়ূনকে নিয়ে বাপ্পীকে খুন করে ফেলেন রাশেদা।

এদিকে গ্রেপ্তার রাশেদা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, বাপ্পীকে খুনের কোন পরিকল্পনা তার ছিল না। বন্ধু হুমায়ূনের সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে ভয় দেখিয়ে কাবিননামার টাকা ২ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা তারা করেছিল। হুমায়ূন আমাকে পরামর্শ দিয়েছে কাবিননামার টাকা বাড়িয়ে নিতে পারলে বাপ্পী আমাকে মেনে নেবে।  তখন আমরা বাপ্পীকে ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করি।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন বলেন, বাপ্পী গোপনে বিয়ে করে রাশেদাকে স্বীকৃতি দেননি। তিনি রাশেদার সঙ্গে সংসার করতে চান না। অন্যদিকে রাশেদা তাকে ছাড়তে চান না। তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে দুইটা মামলাও করেছেন। বাপ্পী ভূয়া তালাকনামা আদালতে দাখিল করে জামিন নেন। এসব বিষয় থেকেই মূলত দ্বন্দ এবং হত্যাকাণ্ড।

0Shares

আরো সংবাদ