সকালেরসময় ডেস্ক:: পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল কেন প্রশ্ন রেখে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব সাংবাদিকদের নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরাও তো সহকর্মী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে পারি। নিজের পক্ষ থেকে অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকতা করে এ হত্যাকাণ্ডের কূলকিনারা করতে পারি। বরং আমরা দেখেছি বিভ্রান্তিমূলক প্রতিবেদন। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের পিএইচপি ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শুধু সাগর-রুনি কেন আমাদের এ পর্যন্ত যত সাংবাদিক মারা গেছেন। হুমায়ুন কবির বালু, মানিক সাহা, দীপংকর চক্রবর্তী, শামসুর রাহমানসহ অনেক সাংবাদিক মারা গেছেন।
একটি সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডেরও কিন্তু পুরোপুরি বিচার হয়নি। এটি শুধু আমাদের লজ্জার বা আমাদের ক্ষোভের বিষয় তা নয়, এটি রাষ্ট্রের। যদি সাংবাদিকরা নিহত হয় আর যদি বিচার না হয় তাহলে সাংবাদিকতা পেশায় একধরনের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কিন্তু সাহসী ও সুষ্ঠু সাংবাদিকতা চলতে পারে না। তাই রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব হলো যত সাংবাদিক হত্যা হয়েছে বিচার করা, তদন্ত সমাপ্ত করা। সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিচারের দাবিটি নতুন করে সারা দেশে আলোর মুখ দেখেছে। এ দাবি শুধু আমরা তুলেছি তা নয়, পেশাজীবী
মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও রুটি-রুজির প্রশ্নে সাংবাদিকদের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা দুঃখিত হই, হতাশ হই, ক্ষুব্ধ হই যথন দেখি তদন্তকারী সংস্থা এ পর্যন্ত প্রায় ৫৪ বার সময় চেয়েছেন। আদালত তাদের জিজ্ঞাসা করতে পারে, আপনারা কেন বারবার সময় চাচ্ছেন, আদালত কেন সময় দেবে। আদালত জবাবদিহি নিতে পারে, কেন তদন্ত সমাপ্ত করতে পারছেন না। সাগর-রুনি হত্যার বিচারের সঙ্গে আমার নিজেরও সম্পর্ক আছে। বেশ কিছু দিন আমি আন্দোলন করেছি।
এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি নিজের কাছে লজ্জিত হই, ক্ষুব্ধ হই। দুই দিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই মিডিয়াতে এ ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। এই বিচার যতক্ষণ না হচ্ছে ততক্ষণ আমরা মনে করি সাংবাদিক সমাজের দাবিটি পূরণ করা হচ্ছে না, যারা তদন্ত করছেন তাদের আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং সাংবাদিকবান্ধব বর্তমান সরকারের সময় সাগর-রুনির হত্যার বিচার এবং তদন্ত যদি সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত না হয় তাহলে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে। প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, দ্য ডেইলি অবজারভারের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মোস্তাক আহমেদ, প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, নির্বাহী সদস্য ম শামসুল ইসলাম প্রমুখ। পরে তথ্য উপদেষ্টা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নবনির্মিত বঙ্গবন্ধু হল পরিদর্শন করেন।