ভাড়া করা শিশু ও নারীদের দিয়ে কেএসআরএমের মানববন্ধন


১৮ মে, ২০১৮ ১২:১৬ : পূর্বাহ্ণ

সকালেরসময় রিপোর্ট::  চট্টগ্রামে ভাড়া করা শিশু কিশোর ও নারীদের দিয়ে কেএসআরএম মানববন্ধন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত টিমকে প্রভাবিত করতে এই আয়োজন বলেও জানান নাম প্রকাশ না করা কিছু এলাকাবাসী। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেএসআরএম’র মালিক শাহজাহানের বাড়িতে ইফতার সামগ্রী বিতরণকালে পদদলিত হয়ে ১০ নারী-শিশুর মৃত্যুর ঘটনার মোর ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্যই এই মানববন্ধন। কিন্তু ঘটনার সত্যতা ও সেচ্চাসেবকদের এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ নিয়ে ঘঠনাস্থল পরিদশর্ন করেছে তদন্ত টিম।

বৃহস্পতিবার (১৭ মে) দুপুরে সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে গাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের হাঙ্গরমুখ এলাকায় যান তদন্ত টিম । তারা সেখানের এলাকার লোকজন ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে সেচ্চাসেবকদের করনীয় কতব্য নিয়ে সেদিনের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

তদন্ত টিম সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সাথেও কথা বলেছেন। তদন্ত টিমে ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্র্রেট মাশহুদুল কবির, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) হাসানুজ্জামান, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তসলিমা আক্তার।

তদন্তে টিমের প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্র্রেট মাশহুদুল কবির বলেন, ঘটনা তদন্তে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের সঠিক রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য গত সোমবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের গাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের হাঙ্গরমুখ এলাকার কাদেরিয়া মুঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কেএসআরএম গ্রুপের ইফতার সামগ্রী ও যাকাত বিতরনের সময় পদদলিত হয়ে ১১ জন মারা যান বলে স্থানীয়রা দাবী করেনে। অবশ্য প্রশাসন বলেছে ১০ জন নারী মারা গেছেন।

ঘটনার পরদিন কেএসআরএম ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শাহজাহানকে প্রধান আসামি করে নিহত হাসিনা আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ ইসলাম বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে শাহাজাহান দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন বলে জানান কেএসআরএমের (সিইও) মেহেরুন করিম। পুলিশ ৪ আসামীকে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করলে তারা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে যায়।

আর এদিকে অভিযোগ উঠেছে। আজ সকালে ঘটনাস্থলে তদন্ত টিম পরিদর্শনে যাবেন জানতে পেরে তদন্ত দলকে প্রভাবিত করার জন্য কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর নামে ভাড়া করা শিশু কিশোর ও নারীদের জোগাড় করে এলাকায় মানববন্ধন আয়োজন করেছে। যা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে বলে জানান কিছু এলাকাবাসী। মানববন্ধন থেকে বক্তরা কেএসআরএম এর এমডি শাহজাহানেরনামে মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।

যে প্রতিষ্ঠানটি সাতকানিয়ায় এই ইফতারসামগ্রী বিতরণের আয়োজন করেছে, তারা এই মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না। তাদের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণেই এতগুলো জীবন চলে গেল। আরও বেদনাদায়ক হলো, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা প্রথমে পদদলনের কথা স্বীকারই করেননি। হিট স্ট্রোক ও শ্বাসকষ্টে ইফতারপ্রার্থীরা মারা গেছেন বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ ধরনের অবস্থান নিহত মানুষগুলোর প্রতি নিষ্ঠুরতা ছাড়া কিছু নয়।

সাতকানিয়ার ঘটনা যে নির্মম সত্যটি তুলে ধরে তা হলো, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা করলেও এখনো গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষ সেই সড়কের বাইরে আছে। জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের সামর্থ্য নেই বলেই দূরদূরান্ত থেকে গিয়ে মানুষ ইফতারসামগ্রী ও জাকাতের জন্য এই মাত্রায় মরিয়া হয়ে ওঠে। এভাবে এতগুলো মৃত্যুর ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

0Shares

আরো সংবাদ