সকালেসময় ডেস্ক :: নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০টি তাজা হ্যান্ড গ্রেনেড,সুইসাইডাল ভেস্ট সহ নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদরঘাট থানার পূর্ব মাদারবাড়ীতে শুভপুর বাস স্টেশনের বিপরীতে একটি পাঁচতলা ভবন থেকে আশফাকুর রহমান (২১) ও রাকিবুল হাসান (২০) নামে ওই দুই জনকে সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। সদরঘাট থানার পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকায় বালুর মাঠের সামনে ১২৬ নম্বর বাড়ির পাঁচতলায় এই আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ।
পুলিশ বলছে, দুই জঙ্গি গ্রেফতার হওয়ায় থানা উড়িয়ে পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে গেছে। এদিকে মঙ্গলবার দুই জঙ্গিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার এ এ এম হুমায়ুন কবির জানান, প্রাথমিক তথ্যে গ্রেফতারকৃতরা নব্য জেএমবির সদস্য বলে নিশিচত হওয়া গেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন আরো বলেন, ১০টি তাজা গ্রেনেডের পাশাপাশি দুটি সুইসাইড ভেস্টও তাদের কাছে পাওয়া গেছে। নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা থেকে এই গ্রেনেড ও বিস্ফোরক জঙ্গিরা মজুদ করেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্ব মাদারবাড়িতে যেখান থেকে নব্য জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয় সেটি মূলত একটি জঙ্গি আস্তানা। আস্তানাটি ঘিরে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সদস্যরা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) এ এ এম হুমায়ুন কবির এবং অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সিটিটিসি) পলাশ কান্তি নাথ যৌথভাবে।
সিটিটিসির এডিসি পলাশ কান্তি নাথ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নব্য জেএমবির সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনায় হামলার টার্গেট নিয়ে তারা চট্টগ্রামে আসেন। সদরঘাট থানায় হামলার টার্গেট নিয়ে তারা মাদারবাড়িতে আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন। তবে আমরা হামলার এই পরিকল্পনা ভন্ডুল করতে পেরেছি।
সিএমপির অপর এক কর্মকর্তা জানান, অভিযানের শুরুতেই আমরা দু’জনকে ধরতে সক্ষম হয়েছি। এদের মধ্যে আশফাকুরের বাড়ি ময়মনসিংহ। আর রাকিবুলের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। দু’জনই এইচএসসি পাস। কিছু সরঞ্জামও জব্দ করেছি। পুরো বাড়ি ঘিরে অভিযান চালিয়েছি।
তিনি আরো জানান, আস্তানায় সদরঘাট থানায় হামলার পরিকল্পনা-সংবলিত টার্গেট ওয়ান লেখা একটি মানচিত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া ১০টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২টি সুইসাইডাল ভেস্ট, একটি মোবাইল ও একটি ট্যাবও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, কথিত নব্য জেএমবি নেতা ‘ডন’ তাদের চট্টগ্রামে পাঠিয়েছেন বলে দু’জনে জানিয়েছেন।
কিশোরকে খুঁজতে গিয়ে জঙ্গির সন্ধান
প্রায় তিন মাসে আগে নগরীর চকবাজার এলাকা থেকে আবদুল্লাহ নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়। তাকে খুঁজতে গিয়ে নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকায় নব্য জেএমবির আস্তানার সন্ধান পায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। সেখান থেকে গ্রেফতার হওয়া দুই আত্মঘাতী জঙ্গি জানিয়েছে, তাদের সদরঘাট থানায় হামলার পরিকল্পনা ছিল। ওই থানার ওসি একজন নারী হওয়ায় তারা সেখানে হামলার পরিকল্পনা নেয়। সিটিটিসি’র কর্মকর্তারা মনে করছেন, নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে হামলার পরিকল্পনা ভন্ডুলের পাশাপাশি বড় ধরনের নাশকতা থেকে চট্টগ্রামকে বাঁচানো গেছে।
অভিযানে নেতৃত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর আবদল্লাহ নিখোঁজের ঘটনায় নগরীর চকবাজার থানায় একটি জিডি হয়। সেটা তদন্ত করতে গিয়ে দেখি আবদুল্লাহর অবস্থান নগরীর সদরঘাট থানা এলাকায়। আমরা অবস্থান পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার আগেই দেখি আবদুল্লাহ নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চলে গেছে। সদরঘাটে অবস্থানের বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জঙ্গি আস্তানাটির সন্ধান মেলে। আবদুল্লাহও বর্তমানে নব্য জেএমবির সঙ্গেই আছে। তাকে এখনো পাওয়া যায়নি। প্রায় এক মাস ধরে রেকি করার পর সোমবার রাতে পূর্ব মাদারবাড়ির বালুর মাঠ সংলগ্ন পোর্ট সিটি হাউজিং সোসাইটির মিনু ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখান থেকে দুজনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি সদরঘাট থানায় হামলার পরিকল্পনা-সংবলিত টার্গেট ওয়ান লেখা একটি মানচিত্র পাওয়া গেছে।
সাত দিনের রিমান্ড : এদিকে নগরীতে গ্রেফতার নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু ছালেম মোহাম্মদ নোমান রিমান্ডে নেওয়ার এই আদেশ দিয়েছেন।
সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এ এ এম হুমায়ুন কবির জানান, সিটিটিসি’র পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়ার দায়ের করা মামলায় রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসি’র পরিদর্শক আফতাব আহমেদ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। শুনানি শেষে আদালত সাতদিন মঞ্জুর করেছেন।