চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদে বিরোধী দল তাদের নিজ নিজ দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। আওয়ামী লীগ নগর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমকে প্রার্থী ঠিক করেছে। আর জাতীয় পার্টি নগর কমিটির আহ্বায়ক সোলায়মান শেঠকে প্রার্থী করেছে।
এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়ে দলটি চট্টগ্রামে এখনও প্রার্থী ঠিক করতে পারেনি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। তারা মনোনয়ন পেলে প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত।
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা অনেকটাই সুখকর। ২০১৫ সালের নির্বাচন বাদে অন্যান্য নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা ভোট করে মোটামুটি সফল হয়েছে। বেশ কয়েকবার বিএনপির মেয়ররা চট্টগ্রামে কর্তৃত্ব করেছেন। হারলেও প্রতিপক্ষকে ভয় ধরিয়ে ছেড়েছেন। এবার যে কোনো উপায়ে চট্টগ্রাম সিটিতে দলীয় মেয়র চায় বিএনপি।
চসিকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বেশ কয়েকজন প্রার্থী আলোচনায় আছেন। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন। প্রত্যেকেই দলীয় মনোনয়ন পেলে দলকে বিজয় এনে দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
চট্টগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- এবার ৪-৫টি নাম জোরোশোরে উচ্চারিত হচ্ছে মেয়র পদে। তারা হলেন- নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদউল্লাহ ও নগর কমিটির বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চসিকের সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান।
এ ছাড়া নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানের নামও এতদিন জোরোশোরে উচ্চারিত হয়েছে। কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যান আবু সুফিয়ান। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুরির অভিযোগ তোলা সুফিয়ান কিছুটা হতাশ। তাই সিটি নির্বাচনে তিনি খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ৫ জনের মধ্যে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। এমনকি চট্টগ্রামের নেতৃত্ব দিতে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছেড়ে দেন। রাজনীতির মাঠেও সক্রিয় তিনি। নেতাকর্মীদের আপদে-বিপদে তিনি পাশে দাঁড়ান। এসব কারণে দলীয় হাইকমান্ডের সুনজর ডা. শাহাদাত হোসেনের দিকে।
চসিক নির্বাচন সামনে রেখে গত ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক প্রতিনিধিসভায় অংশ নেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই দিন তিনি দলের সম্ভাব্য দুই প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্করের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা দুজনই নিজেদের আগ্রহের কথা মহাসচিবকে জানান। তবে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক, তার জন্য কাজ করার কথা বলেন তারা।
৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন ডা. শাহাদাত। কারাগারে থেকেই নির্বাচন করেন তিনি। সেই নির্বাচনে কারাগারে থেকে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে হেরে যান বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছে। এর পর থেকে অবশ্য সিটি নির্বাচন সামনে রেখে কাজ শুরু করেন তিনি।
আবুল হাশেম বক্কর সকালের-সময়কে বলেন, জাতীয় কিংবা স্থানীয় কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পায়নি আমি। এবার সেই সুযোগ নিতে জোরেশোরেই মাঠে নেমেছি আমি। ইতোপূর্বে আমি কোনো নির্বাচনে অংশ নিইনি। দলের প্রার্থীদের জন্যই কাজ করেছি। ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে শাহাদাত হোসেনের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়ে কাজ করেছি। তাই এবারের সিটি নির্বাচনে আমি সুযোগ চাই।
ডা. শাহাদাত হোসেন সকালের-সময়কে বলেন, আমি মেয়র পদে নির্বাচন করতে প্রস্তুত। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে শ্রম দিচ্ছি। সবসময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিলাম। সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে ধানের শীষের বিজয় এনে দিতে পারব বলে আমার বিশ্বাস। এর আগে ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এম মনজুর আলম। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হন।
২৯ মার্চ ভোটগ্রহণের দিন ঠিক করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেখ তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ মার্চ ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ মার্চ।
সকালের-সময় ডট কম