বিষয় :

বিমানে যাত্রীর মৃত্যু— জরুরি অবতরণ না করে তদন্তের মুখে পাইলট


৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৫১ : অপরাহ্ণ

পাকিস্তানের আকাশসীমায় সিলেট থেকে লন্ডনগামী বিমানের ফ্লাইটে যাত্রী অসুস্থ হলেও সেখানে জরুরি অবতরণ করেননি পাইলট। প্রায় তিন ঘণ্টা পর ঢাকায় ফিরে অবতরণের পর ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গত ৩১ ডিসেম্বরের এ ঘটনায় তদন্তের মুখে পড়েছেন ওই ফ্লাইটের পাইলট।

বিমানের কর্মকর্তারা বলছেন, সিলেট থেকে উড্ডয়নের পর পাকিস্তানের আকাশসীমায় ওই যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে পাইলট কাছের বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ না করে ঢাকায় ফিরে আসেন, তাতে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। গত ৩১ ডিসেম্বর লন্ডনগামী বিমানের বিজি ২০১ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটটির পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন আলিয়া মান্নান।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বোসরা ইসলাম বলেন, সিলেট থেকে উড্ডয়নের পর ফ্লাইটটি যখন পাকিস্তানের আকাশসীমায় লাহোরের কাছাকাছি, তখন একজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পাইলট ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করে ফ্লাইটটি ঢাকায় ফেরত নিয়ে আসেন। পরে ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০২৩ সালে বিমানের লন্ডন ফ্লাইটেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন ব্রিটিশ নাগরিক অসুস্থ হয়ে মারা যান।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় বায়ুচাপের পরিবর্তন, কেবিন প্রেসার কমে যাওয়া, ঝাঁকুনি কিংবা মানসিক চাপ অনেক রোগীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক বা দীর্ঘদিন অসুস্থ যাত্রীরা এসব ধকল সহ্য করতে পারেন না। তাই যাত্রার আগে স্বাস্থ্যগত তথ্য গোপন না করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়।

তিনি বলেন, ‘অনেক বিদেশি এয়ারলাইন্স অসুস্থ বা অতিবৃদ্ধ যাত্রী পরিবহনে সতর্ক থাকে এবং ক্ষেত্রবিশেষে ‘ফিট টু ফ্লাই’ সনদ দাবি করে। কিন্তু বিমান নানা বাস্তবতায় যাত্রীকে না বলতে পারে না। কখনো কখনো গ্রাউন্ড স্টাফের সহায়তায় যাত্রীরা অসুস্থতার বিষয় গোপন করেই দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটে উঠে পড়েন।

এসএস/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ