আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসার লোভ আওয়ামী লীগের নেই। তিনি বলেন, বিএনপি গ্যাস বিক্রির অঙ্গীকার করে সরকারে আসে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশকে আবারও অন্ধকারে এবং পেছনে টেনে নিয়ে যাবে। দেশবাসীকে বলব, বিএনপিকে বিশ্বাস করবেন না।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে চায়নি, এখন কেন আন্দোলন করছে? সুযোগ থাকার পরও বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা করেনি। এখন তারা কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইছে? ভোট চুরি করলে দেশের জনগণ মেনে নেয় না, বেগম খালেদা জিয়ার পদত্যাগই তার প্রমাণ। শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি আজকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। খালেদা জিয়াসহ বিএনপির সব নেতাকেই আমার প্রশ্ন, সংসদীয় গণতন্ত্র চেয়েছিলাম আমরা। সেটা তো তারাই চায়নি। এখন কী বলবে তারা? তখন খালেদা জিয়া বলেছিল যে, পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। বিএনপির নেতাদের বলছি, তারা কি সেই পাগল আর শিশু খুঁজে পেয়েছে? একসময় যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলোই না, এখন তারাই এটা নিয়ে লাফাচ্ছে।
বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা কি জবাব দেবে, কেন রাজনীতির নামে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল? বিএনপির আমলে দেশের সর্বস্তরের মানুষ অত্যাচারিত, নির্যাতিত ছিল। বিএনপি নেতারা মানুষকে যে নির্যাতন করেছে, সেগুলো কি মানুষ ভুলে যাবে এত তাড়াতাড়ি? এসব কেন করেছিল, এসবের জবাব আমি চাই বিএনপির কাছে। বিএনপির হাতে রক্তের দাগ তারা কোন গণতন্ত্র দেবে?
সরকার প্রধান বলেন, খালেদা জিয়ার দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়, নির্বাচন করতে চায়, গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চায়? দেশবাসীকে বলব, বিএনপি কোন গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চায়? গণতন্ত্রের নামে দেশটাকে কী দিয়েছিল? তারা বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে হত্যা ছাড়া কিছু বুঝে না।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে সরানোই নাকি বিএনপির এক দফা আন্দোলন। দেশবাসীর কাছে আমার প্রশ্ন, কী অপরাধ আওয়ামী লীগের? প্রতিটি খাতকে কেন তারা পিছিয়ে নিয়েছিল, এর জবাব কি বিএনপি দেবে? তারা ক্ষমতায় থেকে শুধু লুটপাট করেছে, দেশের মানুষকে কিছু দেয়নি। লুটপাট ছাড়া তারা এত টাকা কোথায় পেল। এসবের জবাব মানুষের কাছে তাদের দিতে হবে।
বিএনপি-জামায়াত থেকে দেশবাসীকে সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি দেশের সর্বনাশ ছাড়া কিছুই করতে পারে না। তাদের সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক শক্তি নেই। তারা (বিএনপি-জামায়াত) বলে, তারা আন্তর্জাতিক শক্তি পায়। কোন শক্তিটা আছে, সেটাই আমরা জানতে চাই। চোর ও লুটেরাদের সঙ্গে কেউ থাকে না। কোনো শক্তি নাই তাদের সঙ্গে।
এই খুনি, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, জঙ্গি, মানুষ হত্যাকারী, গ্রেনেড হামলাকারী, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি বিএনপি থেকে দেশবাসী সাবধান! আর জামায়াত বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী, যুদ্ধাপরাধী তারা যে অপরাধ করেছে, তাদের আমরা শাস্তি দিয়েছি। তাদের থেকেও দেশবাসী যেন সাবধান থাকে। দেশবাসীকে বলবে, গণতন্ত্র ওদের মুখের কথা, ওরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসও করে না। ওরা দেশে গণতন্ত্র রাখবেও না। ওরা দেশকে আবার ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।
জাতির কাছে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ কী অপরাধ করেছে? বিএনপি কেন এক দফার কথা বলছে। যারা স্বজনহারা তাদের জবাব কি খালেদা জিয়া দিতে পারবে? বিএনপি দেশের মানুষকে কী দিতে পেরেছে? বাংলাদেশকে আবার অন্ধকার যুগে ফেরাতে চায় বিএনপি। বিএনপির অত্যাচারের শিকার দেশের সর্বস্তরের মানুষ।
যারা দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে তাদের মুখে এখন নীতির কথা শুনতে হয়। বিএনপির মতো অত্যাচারের পথে হাঁটেনি আওয়ামী লীগ। ২১ আগস্টের হামলার আলামত পর্যন্ত রাখতে দেয়নি তারা। এখনও বিএনপির নেতারা আমাকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিচ্ছে। কেন এমন করা হচ্ছে, এর জবাব বিএনপির কাছে চাইতে হবে।
সকালের-সময়/এমএফ