সিণ্ডিকেটের কব্জায় পেঁয়াজের বাজার—জিম্মি ভোক্তা


১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৪:২৬ : অপরাহ্ণ

সরকার যখন পণ্যের দাম ঠিক করে ব্যবসায়ীদের আমদানির অনুমতি দেয়, তখন স্বভাবতই তার সুবিধা পাওয়ার কথা জনগণ তথা ভোক্তার। কিন্তু বাস্তবে ভোক্তা উপকারভোগী না হয়ে সুবিধা হয় বাজার সিন্ডিকেটের। সরকার খুব হম্বিতম্বি করে পণ্যের দাম নিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করেও সেটি বাস্তবায়ন করতে না পারার একটা দায়ও আছে।

বাজার বিশ্লেষকরা এমনটিই মনে করছেন। তাদের মতে, জনগণের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা থাকলেও সরকার আড়ালে বাজার সিন্ডিকেটের সেই পুরোনো কারবারিদের কাছেই অসহায়।

এখন বাজার পরিস্থিতি কেমন-এই প্রশ্নের জবাব এক কথায় বলা মুশকিল। বাজার অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেটের কারণে জবাবটি এমন। যদিও নিত্যপণ্যের উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিকই আছে। বাজার ও গুদামে পণ্যের কোনো ঘাটতিও নেই। এরপরও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিশেষ করে বছরের শেষদিকে এসে পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে নাজেহাল ভোক্তা।

জানা যায়, অসাধু চক্র নির্দিষ্ট সময়ে এক বা একাধিক পণ্য টার্গেট করছে। পরিকল্পিতভাবে বাড়াচ্ছে দাম। মন্ত্রণালয় পণ্যের দাম নির্ধারণ ও আমদানির অনুমতি দিচ্ছে। কিন্তু যত টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল, পুরোটা না কমিয়ে সামান্য কিছু কমানো হচ্ছে। এতে ভোক্তার উপকার বলতে ‘যেই লাই সেই কদু।

চট্টগ্রামের পেঁয়াজ বাজারে উর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ভারতের পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে খাতুনগঞ্জ, পাহাড়তলী ও চাক্তাইসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সিণ্ডিকেটের কারণে এখনো দাম কমেনি।

খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা অভিযোগ করেছেন, সরকার আমদানি উন্মুক্ত করেনি এবং সীমিত সংখ্যক ব্যবসায়ীর জন্যই আইপি দেওয়া হয়েছে। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ আসছে না এবং দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের আড়তদার মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী গণমাধ্যমকে বলেন, আমদানি সকল ব্যবসায়ীর জন্য উন্মুক্ত হলে দাম স্বাভাবিক হতো। সীমিত আকারে পেঁয়াজ আসছে, যা অল্প সময়েই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। দেশীয় মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসতে ১০ দিন সময় লাগবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামে কোনো আমদানিকারক নেই। সব ব্যবসা কমিশনের মাধ্যমে হয়। সীমান্ত থেকে মুঠোফোনে দাম নিয়ন্ত্রণ ও ‘ওঠানামা’ করা হচ্ছে। এতে সীমান্তে দাম নিয়ন্ত্রণ না হলে দেশীয় বাজারে প্রভাব পড়বে না বলে ব্যবসায়ীরা মন্তব্য করেছেন।

জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা বলেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারে বিক্রেতাদের কাছে কেনাবেচার কোনো কাগজপত্র নেই এবং ইচ্ছামতো বিক্রি হচ্ছে। খাতুনগঞ্জে দুই শতাধিক আড়তদার রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি আড়তে পেঁয়াজ-রসুন পরিপূর্ণ, সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু দাম কমছে না, কারণ কমিশনে বাণিজ্যে অনিয়ম ও অসাধু চক্রের সুযোগ রয়েছে।

এসএস/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ