সিডিএ’র কালুরঘাট-চাক্তাই সড়ক নির্মাণে অনিয়ম চরমে!


১২ নভেম্বর, ২০২৩ ১:০৩ : পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে চরম অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী। আর এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পে নতুন ও মানসম্পন্ন ইট এবং বালু ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান করছে তার উল্টো।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে পুরোনো ভবনের পচাঁ ইট, পলেস্তরা, রাবিশ ও মাটি ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি দেখেও প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা রহস্যজনক নিরবতা পালন করছে। এদিকে দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়ে এখন কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স।

সিডিএ সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির পিডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিব দাশ। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। এই সুযোগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে চলছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কল্পলোক আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোডের শেষ মাথায় প্রকল্পটির সাইট অফিস। অফিসটির বাম পাশে বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা হয়েছে ভবনে ব্যবহৃত পুরাতন ইট ও রাবিশ। বিশাল পুরাতন ইটের স্তুপ। একদল ইট ভাঙার মেশিন দিয়ে পুরাতন ইট ভাঙছে। শ্রমিকরা তা ট্রাকে তুলছে। পুরাতন ইট ভেঙে কংক্রিট তৈরি করছে। আর এসব কংক্রিট প্রকল্পের বিভিন্ন ঢালাইয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত চার লেনের সড়ক কাম বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের অক্টোবরে। সাড়ে আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি তিন বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। তবে প্রায় পাঁচ বছর সময় পার হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটির কাজ এখনও শেষ করতে পারেনি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। এই সময়ে দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি ৪৭১ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, ‘প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ও ঠিকাদাররা যোগসাজশে বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েছে মূলত হরিলুট করার জন্য। প্রকল্প নেওয়ার আগেই প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় নির্ধারিত থাকে। সেই অনুসারে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয় না কেন? তিন থেকে চারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হবে কেন? এর কারণ হচ্ছে প্রকল্পে অনিয়ম আর হরিলুট করা।

তিনি আরও বলেন, প্রায় প্রত্যক বড় বড় প্রকল্পে এমন হচ্ছে। জবাবদিহিতা না থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম হচ্ছে এবং অসংগতিই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের। নয়তো এভাবে সরকারি টাকা নয়ছয় হতেই থাকবে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্সের প্রকৌশলী ও প্রজেক্ট ম্যানেজার (পিএম) অসিম কুমার হালদার বলেন, পুরাতন ইট দিয়ে কংক্রিট তৈরি করা হচ্ছে ঠিক আছে। এসব কংক্রিট প্রকল্পে ব্যবহার করব না। অন্য জায়গায় ব্যবহার করব। অন্য কোন জায়গা বা কোন প্রকল্পে ব্যবহার করবে তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
তবে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও চউকের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিব দাশ বিদেশে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সকালের-সময় ডটকম 

0Shares

আরো সংবাদ