রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক নারী কর্মীকে দীর্ঘদিন শারিরীক নির্যাতন ও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি, মারধর, হুমকি ও চাকরি থেকে অপসারণের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রেলের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী কর্মী রেলওয়ের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী সাজেদা আক্তার জানান, তিনি ২০২১ সাল থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের সিএসটিই/পূর্ব দপ্তরে অফিস সহায়ক (টিএলআর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই দপ্তরের অফিস সহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন তাকে বিয়ের আশ্বাস ও প্রলোভন দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। মামুন তার ছোট বোনের বিয়ের পর তাকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।
এ বিষয়টির প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে তিনি সিএসটিই/পূর্ব দপ্তরের প্রধান সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন।
সাজেদা আক্তারের অভিযোগ—কয়েক মাস আগে আবদুল্লাহ আল মামুন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করার হুমকি দেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে গেলে গত ৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সিআরবি এলাকায় সিএসটিই অতিরিক্ত দপ্তরে ডেকে নিয়ে তাকে শারীরিকভাবে মারধর করা হয়।
এতে তার মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ হয়। ওই সময় সেখানে মোস্তাফিজুর রহমান ও মিসরাত সেহের উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে তিনি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
অভিযোগে আরও বলা হয়—এরপর মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেন, চাকরি থেকে অব্যাহতির হুমকি দেন এবং টাকা দিয়ে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী নারী রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মৌখিক আদেশে তাকে প্রথমে ডিএসটিই/চট্টগ্রাম দপ্তর এবং পরে চট্টগ্রাম জংশন কেবিনে খালাসী পদে যোগদান করতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাজেদা আক্তার জানান—একজন নারী হিসেবে তিনি চরম মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক লজ্জার মুখে পড়েছেন। তিনি আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০৬, চট্টগ্রামে একটি মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে পিবিআই, চট্টগ্রাম কর্তৃক তদন্তাধীন। তবে জিএম বরাবর অভিযোগ দেওয়ার পর জিএম স্যার একটি ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।
অভিযোগকারী আরও বলেন, মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে প্রতিনিয়ত চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং চাকরি থেকে অপসারণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী উল্লেখ করে বলেন, চাকরি হারালে তার আত্মহত্যা ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।
এ বিষয়ে তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব), চট্টগ্রামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল মামুন ও মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা উভয়েই কল রিসিভ করেনি।
এসএস/এমএফ