নিজস্ব প্রতিবেদক: চুরির মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের পর তাকে বেধড়ক মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে নিজ বাহিনীর এক সদস্যের নামে জোরপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দি আদায়ের ঘটনায় রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী স্টোরসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর ইসরাইল মৃধাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে চট্টগ্রাম দপ্তরে ক্লোজড করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমান্ডার শফিকুল ইসলাম।
জানা যায়, গত ১৯ ও ২০ মার্চ চট্টগ্রামের পাহাড়তলী স্টোরসের রেলের মালামাল চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় মামলা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় মো. আকরাম আলী নামে এক আসামিকে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকরাম চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেন।
কিন্তু ইন্সপেক্টর ইসরাইল মৃধা তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে সেই চুরির ঘটনায় পার্শ্ববর্তী পাহাড়তলী স্টেশনের আরএনবি হাবিলদার কৃষ্ণপদ চক্রবর্তীর সম্পৃক্ততা থাকার জবানবন্দি আদায় করেন। সেই জবানবন্দির ভিত্তিতে কৃষ্ণপদকে পাহাড়তলী স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের হালিশহরস্থ রেলওয়ে ট্রেনিং সেন্টারে বদলীও করা হয়। সম্প্রতি আসামি আকরাম জেল থেকে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর বিষয়টি আরএনবি হাবিলদার কৃষ্ণপদকে জানালে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।
আকরাম জানিয়েছেন, চুরির ঘটনা স্বীকার করার পরও ইন্সপেক্টর ইসরাইল মৃধা ওই ঘটনায় কৃষ্ণপদ জড়িত রয়েছে বলে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করেন। জবানবন্দি আদায় করতে নির্যাতনের এক পর্যায়ে তার হাতের নক পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানির পর ইসরাইল মৃধাকে ক্লোজ করে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
আর এদিকে—রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী চোরচক্র ধরতে তৎপরতা চালালেও এই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ আছে। গত বছর ২৭জুন পাহাড়তলী সেল ডিপোতে মালামাল চুরির সময় চার চোরকে হাতেনাতে আটক করে আরএনবি।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় সেল ডিপুর দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী (স্টোর) মো. ইউনুচের সহায়তায় অবৈধভাবে রেলের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো পাচার করছিল চক্রটি। হাতেনাতে আটককৃত চার চোরের মধ্যে একজন ভ্যানচালককে ছেড়ে দেয় আরএনবির পরিদর্শক ইসরাইল মৃধা।
পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে আরএনবি পরিদর্শক ইসরাইল মৃধাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে আরএনবি। কিন্তু সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউনুচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি শুরু করে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক। আরএনবির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়া হলেও ব্যবস্থা নেয়া না নেয়া নিয়ে তোলপাড় হয়।
রেলওয়ের অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে পাহাড়তলী। এই এলাকায় থাকায় রেলওয়ে নানা স্থাপনা ঘিরেই অপরাধ চক্র সক্রিয়। তেল চুরি, বৈদ্যুতিক তার চুরি, রেলবিট চুরিসহ ছোটবড় নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছে রেল কর্মচারীরা। সেখানকার অপরাধী চক্রটির প্রধান টার্গেট হিসেবেই আছে সেইল ডিপো। এই ডিপোতে প্রায় ৮০ ক্যাটাগরির সরঞ্জাম খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকে।
এরমধ্যে অকেজো ও পরিত্যক্ত ইঞ্জিন, লোকোমোটিভের টাকা, স্প্রিং, বগি, লোহা, সিলভার, তামা, স্টিল, এমএস শিপপ্লেট, এমএস স্ক্র্যাপ, বাফার হ্যালিকল স্প্রিং, স্টিল স্প্রিং, কপার স্ক্র্যাপ, অ্যালুমিনিয়াম স্ক্র্যাপ ও পুরনো বাল্বের মতো সরঞ্জাম আছে। এই ডিপোতে সাধারণ মানুষের আনাগোনা না থাকলেও রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে এসব সরঞ্জাম লুটের লোভ সামলাতে পারে না।
এসএস/এমএফ