রাত পোহালেই ভোট–মনিটরিংয়ে থাকছে ১৪’শ সিসি ক্যামেরা


২৯ জুলাই, ২০২৩ ৭:২৯ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচনে প্রচারণা শেষ হয়েছে গতকাল শুক্রবার। এ আসনের ১৫৬টি কেন্দ্রে আগামিকাল রোববার ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রতিটি কেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।

পুলিশি নিরাপত্তায় শনিবার দুপুরের পর থেকে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারদের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে ইভিএমসহ নির্বাচনী সামগ্রী। ভোটগ্রহণের জন্য ৪ হাজার ১০৬ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং ২ হাজার ১১০টি ইভিএম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১৫৬টি কেন্দ্রে বসানো হয়েছে ১ হাজার ৪০৭টি সিসিটিভি ক্যামেরা।

বিএনপিবিহীন নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় কোনো ধরনের উত্তাপ ছিল না। তবে বিএনপি পদযাত্রা কর্মসূচি অনুষ্ঠানের পর লালখান বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠে রাজনীতি। এর রেশ ধরে ভাঙচুর করা হয় বিএনপি নগর কার্যালয়। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ালেও ভোটের মাঠ ছিল নিরুত্তাপ।

ভোটাররা জানান, আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ছাড়া প্রচারণায় বড়ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রার্থীরা নিজেদের মতো করেই প্রচারণা চালিয়েছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু প্রচারণা বেশি করলেও বাকি প্রার্থীদের তেমন দৌঁড়ঝাপ চোখে পড়েনি।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের মো. মহিউদ্দিন বাচ্চুসহ (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. সামসুল আলম (লাঙ্গল), তৃণমূল বিএনপির দীপক কুমার পালিত (সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের রশীদ মিয়া (ছড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আরমান আলী (বেলুন) ও মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া (রকেট)।

এ নির্বাচনে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৬৩৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এদের মধ্যে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯২৯ জন পুরুষ এবং ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ জন নারী ভোটার।

রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়- নির্বাচনে পুলিশ, আনসার, র‌্যাব, বিজিবি মোতায়েন থাকবে। ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুইজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। চারটি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ৮টি মোবাইল টিম, র‌্যাবের চারটি টিম, চার প্লাটুন বিজিবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবে।

এছাড়াও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের ২৪ জনের একটি টিম মাঠে থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জনের সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। সাধারণ কেন্দ্রে বিভিন্ন বাহিনীর ১৬-১৭ জন। এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে।

এদিকে, শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা থেকে মোটর সাইকেল চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ৩১ জুলাই পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে। শনিবার রাত ১২টা থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত ট্রাক, বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, পিকআপ, ইসিবাইক চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক, পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জরুরি সেবা প্রদানকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ১৫৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ১৬-১৭ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১৭-১৮ জন পুলিশ ও আনসার দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ এবং এপিবিএনের সমন্বয়ে ৮ ওয়ার্ডে ৮টি মোবাইল ফোর্স থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে ৪টি, র‌্যাবের ৪টি টিম থাকবে (প্রতি ২ ওয়ার্ডে ১টি করে), বিজিবি থাকবে ৪ প্লাটুন (প্রতি ২ ওয়ার্ডে ১টি করে)।

চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উপ নির্বাচনে ১৬৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১৩১৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ২৬২৮ জন পোলিং অফিসার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ২৪, ২৫ ও ২৬নং ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-১০ আসন। গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডা. আফছারুল আমীন এই আসনে টানা তিনবার বিজয়ী হয়েছিলেন। গত ২ জুন ডা. আফছারুল আমীনের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়।

সকালের-সময়/ফোরকান

0Shares

আরো সংবাদ