যানজটে নাকাল চট্টগ্রামবাসী, স্বস্তি দিতে পুলিশের নানা পদক্ষেপ


১২ এপ্রিল, ২০২২ ১:১৮ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রমজান মাস এলেই সড়কে বাড়ে যানবাহনের চাপ, বাড়ে মানুষের চলাচল। ফলে যানজট কিংবা যানবাহনের ধীর গতিতে রুদ্ধ হয় রাজপথ। কোথাও কোথাও সকালে, দুপুরে কিংবা ইফতারের সময় যানজট হচ্ছেই হচ্ছে। তাতে ইফতার কেন্দ্রীক যানজটে নাকাল হয় নগরবাসী। তবে রমজানে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে নগর ট্রাফিক বিভাগ।

যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করবে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। ইফতারের সময় যাতে কোনো ট্রাফিক পুলিশকে ঘরে বা দোকানে গিয়ে ইফতার করতে না হয় সেজন্য সবাইকে দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে ইফতার। এছাড়া ১০ রমজানের পর মাঠে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি থাকবে পুলিশের বাড়তি ফোর্স।

রমজানের প্রথম দিন থেকে চট্টগ্রাম নগরের প্রধান সড়কগুলোর মোড়ে মোড়ে কিছুক্ষণের জন্য হলেও যানজটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যানবাহনের বাড়তি চাপের কারণে সিগন্যাল পার হতে ১০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগছে। রমজান আর চৈত্রের তীব্র গরমে যানজটে আটকা পড়ে নাকাল হচ্ছে মানুষ। এই চাপটা দশ রমজানের পর আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা ট্রাফিক বিভাগের।

সরেজমিনে গত তিন দিন নগরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট মোড়, নতুন ব্রিজ, বকশিরহাট মোড়, নিউ মার্কেট, আমতল, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, টাইগারপাস মোড়, আগ্রাবাদ, বড়পোল, বারিক বিল্ডিং মোড়, ইপিজেড, ও কাটগড় এলাকায় রোজা রেখে মিনিটের পর মিনিট বসে থাকতে হচ্ছে যানজটে আটকা পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থী। এছাড়া নগরীর দেওয়ানহাট মোড় থেকে আগ্রাবাদ, বন্দর হয়ে সিইপিজেড মোড় পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায়ও সৃষ্টি হয় অস্বাভাবিক যানজটের।

নিউ মার্কেট হচ্ছে চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। পর্যাপ্ত ও প্রশস্ত রাস্তা থাকলেও, তার অনেকটাই হকারদের দখলে। এ ছাড়াও রয়েছে অবৈধ গাড়ি পার্কিং। ফলে নিত্যদিন যানজটের এমন দৃশ্য এখানে দেখা যায়।

নগর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, করোনার কারণে দুই বছর বন্ধ ছিল রমজানের ঈদ বাজার। তাই রাস্তাঘাটে মানুষ বের না হওয়ায় যানজট হয়নি। তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ছিল। এখন পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক। তাই খোলা থাকছে মার্কেট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে রাস্তাঘাটে গাড়ির চাপ বেশি। এছাড়া উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক কাটা হয়েছে। এজন্য নগরজুড়ে যানজটের মাত্রা একটু বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, তবে রমজানে যাতে যানজট সহনীয় পর্যায়ে থাকে সেজন্য বেশ কয়েকটি উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। ঈদে কেনাকাটা আর যাত্রীদের চাপ থাকায় তিন শিফটে ডিউটি করবে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। ইফতার করতে যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের বিনামূল্যে প্রতিদিন ইফতার দেয়া হচ্ছে। ১০ রমজানের পর মাঠে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি থাকবে পুলিশের বাড়তি ফোর্স।

নগর ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর বিভাগ) জয়নুল আবেদীন বলেন, এবার রমজানে সবকিছু খোলা থাকায় আমাদের দায়িত্বও বেড়েছে। তাই জনবল বাড়ানো হয়েছে। কোভিডের কারণে পর পর দুই বছর রমজানে মার্কেট বন্ধ ছিল। এবার মার্কেট খোলা থাকার পাশাপাশি ২০ রমজান পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খোলা থাকবে। এসব বিষয় মাথায় রেখে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সাজানো হয়েছে।

ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের উপ-কমিশনার তারেক আহম্মেদ বলেন, অলঙ্কার, একে খান মোড়ে কোনো টার্মিনাল না থাকায় সেটা অলিখিত বাস স্টেশন হয়ে গেছে। সেখানে বিভিন্ন যাত্রীরা উঠানামা করার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে বন্দরের সড়ক দিয়ে বিমানবন্দর, সিইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেডের বিভিন্ন কারখানায় লাখো মানুষের চলাচল। কিন্তু বন্দরে ঢোকার জন্য ট্রাকসহ মালবাহী যানের দীর্ঘ লাইন সড়ক সুরু করে তৈরি করছে যানজট। বর্তমানে এ সড়কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজ যানজট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এ বিষয়ে বন্দর বিভাগের উপ কমিশনার শাকিলা সোলতানা বলেন, বন্দর বিভাগে এলিভেটেডে এক্সপ্রেসওয়ের কারণে সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় যানজট হতো আগে থেকেই। এখন রমজানে সেটা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ার কথা। তবে আমরা পালা করে পরিকল্পনামাফিক কাজ করছি। তাছাড়া পণ্যবাহী ভারী যানবাহনগুলো দুপুর তিনটার পর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত নগরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে আশা করি যানজটে এতো ভোগাবে না নতুন করে।

এসএস

0Shares

আরো সংবাদ