মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরের নিয়ন্ত্রণ বুঝে পেল চট্টগ্রাম বন্দর


২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ৮:২৮ : পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় বঙ্গোসাগরের তীরে নির্মিত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চ্যানেলের নিয়ন্ত্রণ বুঝে পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী চ্যানেলটির নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সামগ্রী বহনকারী জাহাজ ভেড়াতে চ্যানেলটি খনন করে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)। ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো ইন্দোনেশিয়ার একটি জাহাজ ভেড়ার মধ্য দিয়ে চ্যানেলটি চালু হয়েছিল।

তিন বছরের মাথায় বুধবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চ্যানেলটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিপিজিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে চ্যানেলের নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।

এ সময় আরও ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তফা কামাল ও বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান। এ ছাড়াও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১, মহাপরিচালক (প্রশাসন), পুলিশ কমিশনার, কাস্টমস কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক এ প্রসঙ্গে জানান, এখন থেকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চ্যানেলের ব্যবহার, সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিভাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত হলো। এ চ্যানেল ব্যবহার করে আসা সমুদ্রগামী জাহাজের সব ধরনের শুল্ক বন্দর কর্তৃপক্ষ আদায় করবে। এসব শুল্কের মধ্যে আছে-পোর্ট ডিউজ, বার্থ হায়ার চার্জ, পাইলটিং, টাগ চার্জ, বার্থিং-আনবার্থিং এবং অন্যান্য চার্জ।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে সিপিজিসিবিএল কর্তৃক মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২৫০ মিটার প্রস্থ, ১৮ দশমিক ৫ মিটার (এমএসএল) গভীরতার একটি চ্যানেল খনন করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্চে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেকে) অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান। আর সরকার ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং চট্টগ্রাম বন্দর ২ হাজার ২১৩ কোটি টাকার জোগান দিচ্ছে।

এসএস/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ