চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে সরকার। ব্যয়ের সঙ্গে আয় ও কর্মসংস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে এসব প্রকল্প বাতিল হতে পারে বলেও আভাস মিলেছে। তবে বন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকল্পের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া জরুরি।
বে-টার্মিনাল, লালদিয়া চর টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর- এই তিন মেগা প্রকল্প নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ চলছে। বে-টার্মিনালের কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের শুরুতে। এই টার্মিনালে ৮০০ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগের কথা জানিয়েছিল বন্দর।
এ বিষয়ে এমএসসি শিপিংয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চাই বে-টার্মিনাল লাইভে আসুক। অনেক বছর ধরে এটি নিয়ে কথা হচ্ছে। সেই ২০১৫ সাল থেকে এটিকে ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে দেখছি। কিন্তু বাস্তবে অগ্রগতি কম। আমাদের যত ধরনের চাপ, সব বর্তমান বন্দরে পড়ছে। সমস্যা হচ্ছে এটি একটি নদী কেন্দ্রিক বন্দর এবং এটি শহরের মাঝখানে।
মাতারবাড়িতে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার গভীর সমুদ্রবন্দর চ্যানেল উদ্বোধন হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে। এর বাইরে লালদিয়া চর টার্মিনালের কাজও অনেকদূর এগিয়েছে। ৩ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিদেশি বিনিয়োগ, ঋণ ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব, পরিবেশের উপর প্রভাব বিবেচনা করেই মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়ার কথা ভাবছে নতুন সরকার।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনেকগুলো প্রজেক্ট রিভিউ হবে। যেগুলো একেবারে বন্ধ করা সম্ভব নয় সেগুলো হয়তো চলবে। তবে যেগুলো বন্ধ করা যাবে সেসব বন্ধ হবে। আগামীতে আমাদের প্রকল্পের ভিত্তি হবে, আমি যে টাকা খরচ করবো- সেটার মূল্য থাকতে হবে। রিটার্ন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আমরা বিবেচনা করব, বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন কি দেখব। মেগা প্রকল্প নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্টদের। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ঘিরেও আছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
বিজিএমইএ’র সাবেক সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি মনে করি অন্য অনেক মেগা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা আছে, সমালোচনা আছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল, মাতারবাড়ী এসব প্রোডাক্টিভ প্রকল্প। এগুলো কোনো সরকার নিলো সেটা বিবেচনা করা উচিত না। এগুলো কোনোভাবে দীর্ঘায়িত করা উচিত না। এ সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা দ্রুত এগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি।
বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, এই সরকারের কাছে প্রত্যাশা লালদিয়ার চরের চুক্তিটি করা যাবে কি না সেটা ভেবে দেখা। কারণ চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অনেকটা একমাত্র সমুদ্র বন্দর। এটি রক্ষায় সকলের আন্তরিক হওয়া উচিত। সরকারের কাছে প্রত্যাশা তারা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
প্রসঙ্গত—দেশের আমদানি-রপ্তানির মোট ৯২ ভাগ পরিবহন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।
সূত্র—আইটিভি/এসএস/এমএফ