ফেঁসে গেলেন চসিক কাউন্সিলর ওয়াসিম ও তার স্ত্রী রুমানা


১১ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১২:৩৬ : পূর্বাহ্ণ

ক্ষমতার অপব্যবহার ও তথ্য গোপন করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কাউন্সিলর মো. ওয়াসিম উদ্দীন চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুমানা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এবিষয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যাল চট্টগ্রাম-১ এর সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে প্রেরিত এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিযুক্ত মো. ওয়াসিম উদ্দীন চৌধুরী ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

দুদক সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে অর্জন করা সম্পদের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে কাউন্সিলর ওয়াসিম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হবে।

এবিষয়ে কাউন্সিলর ওয়াসিমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সস্প্রতি রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিঞাকে একটি চিঠি দিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা ইমরান হোসেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ওয়াসিম ও তার স্ত্রীর দুর্নীতি অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, চলতি বছরের ২৪ আগস্ট দুদক প্রধান কার্যালয় ঢাকার ০০.০১.১৫০০.৬২২.০৩.১৭৩.২৩, চট্টগ্রাম-০১/২৯৭৮০নং স্মারকমূলে কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তার দুর্নীতি অনুসন্ধানে প্রথম একটি চিঠি প্রেরণ করা হয় দুদক সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এ।

এর প্রেক্ষিতে গত ২৯ আগস্ট তারিখে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ ‘০০.০১.১৫০০.৭১২.০৩.১৭৩.২৩.৩৯৭২’ স্মারকমূলে আরো একটি পত্র সংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রেরণ করে সংস্থাটি। এরপর দুদকের মহাপরিচালক (তদন্ত-২) অনুবিভাগ ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী ও তার স্ত্রীর সম্পদ ও দুর্নীতি অনুসন্ধানে আরো একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রেরণ করে যার ই.আর.নং- তদন্ত-২/১৭৩/২৩/চট্টগ্রাম-১।

এই তিনটি চিঠির প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ গত ৮ নভেম্বর তারিখে কাউন্সিলর মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ছায়ালিপি সরবরাহকরণ’ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্ব) প্রধান প্রকৌশলীকে একটি চিঠি দেন যার স্মারক নম্বর- ০০.০১.১৫০০.৭১২.০৩.১৭৩.২৩.৬১৬০।

এই চিঠিতে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক মো. এমরান হোসেন স্বাক্ষরিত মেসার্স নুর নাহার ট্রেডার্স নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারি চসিকের কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী ও তার স্ত্রী রোমানা আক্তারের সম্পদ বিবরণী যাচাই করে।

তখন ২০০৬ সাল থেকে জুলাই ২০২৩ সালের সময়কালে ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর নামে সর্বমোট কত টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়। এবং বছর ভিত্তিক তার একটি প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত কপি এবং রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে মেসার্স নুর নাহার ট্রেডার্সের নামে পরিশোধিত ঠিকাদারি বিলের সঠিকতা যাচাইপূর্বক প্রতিবেদন অনুসন্ধানের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবং তা অতি জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

এবিষয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর কোন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে চসিকের ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল সংযোগ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য—কাউন্সিলর ওয়াসিম অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ-সম্পদ বৈধ করার অপচেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। সে কারণেই দুদক তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে রেলওয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।

এসএস/ফোরকান

0Shares

আরো সংবাদ