প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা—নানা প্রশ্ন


২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:৪৫ : অপরাহ্ণ

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে শক্তি বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পটি ২০১৮ সালে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল বোয়িং-৭৭৭-এর মতো বড় উড়োজাহাজ নিরাপদে ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি। এর আওতায় রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণ, সাইড স্ট্রিপ গ্রেডিং ও এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম (এজিএল) উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কিন্তু বড় আকারের উড়োজাহাজ নিরাপদে ওঠানামার লক্ষ্যে নেওয়া রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে শক্তিশালীকরণ প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া আড়াই বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের এরই মধ্যে চার দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তারপরও কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এবার আরও ছয় মাস সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, বৈশ্বিক সংকট ও কাজের পরিধি পরিবর্তনকে কারণ হিসেবে দেখানো হলেও প্রকল্প পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৬২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু দুই বছর ছয় মাস মেয়াদি প্রকল্পটি আট বছরেও শেষ হয়নি। এবার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হলে প্রকল্পের সময়কাল দাঁড়াবে সাড়ে ৮ বছর—অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ছয় বছর বেশি।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে মীর আক্তার-সিএএমসিই জেভি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত করোনার কারণে প্রায় ১৮ মাস কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ডলার সংকটে আমদানিনির্ভর উপকরণ—এসবিএস মডিফায়েড অ্যাসফল্ট, বিটুমিন, জয়েন্ট সিলিং কম্পাউন্ড ও এজিএল সিস্টেম সময়ে সংগ্রহ করা যায়নি।

পরবর্তী সময়ে এজিএল সিস্টেমকে সিএটি-১ থেকে সিএটি-২ মানে উন্নীত করার সিদ্ধান্তে টেন্ডার আইটেমে পরিবর্তন ও নন-টেন্ডার আইটেম সংযোজন করা হয়। একনেক কর্তৃক প্রথম সংশোধিত ডিপিপি ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের নতুন মেয়াদ ধরা হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু সংশোধিত কাজগুলোও সময়মতো শেষ করা যাবে না বলে আরও ছয় মাস বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) শর্তসাপেক্ষে মতামত দিয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংশোধিত ইমপ্লিমেন্টেশন ম্যাট্রিক্স, মাইলস্টোনভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা, আমদানিনির্ভর উপকরণের রোডম্যাপ, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, অঙ্গভিত্তিক ব্যয়সীমা রক্ষা এবং প্রকল্প অডিট সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল। তবে পূর্ববর্তী মেয়াদ বৃদ্ধির সময় দেওয়া শর্ত বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কমিশনের কোনো প্রকাশ্য মূল্যায়ন নেই।

প্রায় আট বছরেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো শেষ না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও তদারকি দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অর্ধসমাপ্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কার্যকর তদারকির অভাব স্পষ্ট।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) ফররুখ আহম্মদ বলেন, ঠিকাদার নিয়োগে বিলম্বিত হওয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয় দেরিতে। এখন পুরোদমে কাজ চলছে এবং প্রস্তাবিত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব বলেও তিনি জানান।

সূত্র—কেবি/এসএস/,এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ