রেলের ডাস্টবিনে পলিথিন সরবরাহের নামে সরকারি টাকা লুট করার অভিযোগ উঠেছে খোদ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম) নাজমুল ইসলাম ও এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের ডাস্টবিনে পলিথিন সরবরাহ ও সংরক্ষণের জন্য এই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক অলিউর রহমানকে প্রতিমাসে ১৭ লাখ টাকা পরিশোধ করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পলিথিন সরবরাহ তো দূরের কথা, কোনও কোনও স্টেশনে ডাস্টবিনেরই দেখা মিলেনি।
জানা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্টেশনের ডাস্টবিনে পলিথিন সরবরাহ ও সার্ভিসিং এবং সংরক্ষণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার জন্য রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজারের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহদিকা সার্ভিসেস এর মালিক অলিউর রহমানের সঙ্গে দুই বছরের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এজন্য ওয়াহদিকা সার্ভিসেসকে প্রতিমাসে ১৭ লাখ টাকা পরিশোধ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু–এ কাজের জন্য দুই বছর পর পর নতুন টেন্ডার আহ্বান করার নিয়ম থাকলেও গত ৭ বছর ধরে অলিউরের প্রতিষ্ঠানকেই গোপনে নবায়ন করে দিয়ে রেলের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম) নাজমুল ইসলামসহ এই দপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সরেজমিন দেখা যায়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্টেশনে কোনও পলিথিন সরবরাহ করা হয় না।
ডাস্টবিনে পলিথিন ছাড়াই ময়লা ফেলতে দেখা গেছে যাত্রীদের। যাত্রীরা যে যার মতো করে খাওয়া শেষে ময়লা ফেলে চলে যাচ্ছেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কোনও কর্মচারীকে ডাস্টবিনে পলিথিন সরবরাহ করতে দেখা যায়নি। কোনও স্টেশনে ৫টি আবার কোনও স্টেশনে ১০টি পর্যন্ত ডাস্টবিন দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেখানে একটি করে পলিথিন থাকার কথা থাকলেও সেটি দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার অলিউর রহমান সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের-সময়কে রাগান্বিত হয়ে বলেন, ভাই দুকলম লিখে দেন কাজটা চলে যাক, ভাই আমার ভুল ভাল হতে পারে , ভুল হতে পারে না! সবযে দোষ করি তা না ভালো কিছু করার চেষ্টা করি।
জানা যায়—এ কাজের জন্য ঠিকাদার অলিউরকে প্রতি ডাস্টবিনে মাসে ১ হাজার ৯৮৫ টাকা পরিশোধ করছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ। এসব স্টেশনে ডাস্টবিনের দেখা মিললেও পলিথিনের দেখা মিলেনি। শুধু তাই নয়, ঢাকা-চট্টগ্রামে বেডিং পোর্টার সরবরাহের জন্য প্রতিমাসে ৫ লাখ টাকা করে টেকনোক্রেটস নামের আরেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে এই টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। এসব কাজের জন্য শ্রমিক প্রয়োজন হয় ৯ থেকে ১০ জন। কিন্তু টেকনোক্রেটস নামের প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ৩২ জন শ্রমিকের কথা উল্লেখ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত মজুরি গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার সকালের-সময়কে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পিপিআর ২০০৮ লঙ্ঘন করে ভাই ভাই লন্ড্রী ও ওয়াহদিকা সার্ভিসেস এর মালিক অলিউর রহমান সিসিএম নাজমুল ইসলামকে মাসিক মোটা অংকের টাকা মাসোয়ারা দিয়ে বার বার নবায়ন করে নিচ্ছে। তাই বিনা টেন্ডারে এই প্রতিষ্ঠানকে নবায়নের সুযোগ করে দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অন্যান্য রেলের ঠিকাদাররা।
যাত্রী ও রেল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্টেশনে ডাস্টবিন থাকলেও ময়লা যথাসময়ে সংগ্রহ করা হয় না। যার কারণে পুরো রেল স্টেশন জুড়ে ডাস্টবিন থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। যদি ডাস্টবিনের ময়লা সংগ্রহের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনও টাকা পরিশোধ করে থাকে তাহলে তা লুট করছে। এই ব্যাপারে এই লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেনি।
তবে গোপন চুক্তির বিষয়ে জানেন না রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তির বিষয়ে আমি অবগত নই। যদি আপনার কাছে কোন ডকুমেন্টস তাকে আমাকে দেন। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।
সূত্র-বিএন/এসএস