পর্যটকদের আতঙ্কের নাম প্রমোদতরী বে-ওয়ান ক্রুজ!


৮ মার্চ, ২০২২ ২:৫৭ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড পরিচালিত ‘বে ওয়ান ক্রুজ’ প্রমোদতরী গত ২৫ ফ্রেবুয়ারী বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গিয়েছিল। হঠাৎ গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল ও আগুন লাগায় সেন্ট মার্টিনে না গিয়ে বন্দরের টাগবোট ‘কাণ্ডারি-১০’ এর সহযোগিতায় বন্দর চ্যানেলে ফিরে আনা হয়।

যাত্রীরা বলেন—ঠিক সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসলে গভীর সমুদ্রে শতাধিক মানুষ নিথর দেহ হয়ে যেত। ইঞ্জিন রুমে আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পেয়ে তখন যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং জাহাজের লোকজন ফায়ার ডিসটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় বলে আমরা জানতে পারি। আতঙ্কিত যাত্রীরা তখন নিচে নেমে গিয়ে লাইফ জ্যাকেট পরতে শুরু করে। বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেল এলাকায় জাহাজটি একপ্রকার দাঁড়িয়ে ছিল তখন।

জানা যায়–জাপানে ১৯৯২ সালে তৈরি করা হয় এই জাহাজ। ৩০ বছরের পুরনো সালভিয়া মারু নামের এই জাহাজকে (আইএমও নম্বর ৯০৫৪০৮০) চট্টগ্রামে এনে ঘষামাজা করে বানানো হয় বিলাসবহুল প্রমোদতরী ‘বে ওয়ান ক্রুজ’। প্রমোদতরীটির লাইপ টাইম শেষ হয়েছে আরও ৪ বছর আগে। তারপরও অদৃশ্য কারণে সমুদ্রপথে চলছে বে-ওয়ান ক্রুজ।

আরও জানা যায়–ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব ক্লাসিফিকেশন সোসাইটিজের (আইএসিএস) নীতিমালা অনুযায়ী, যে কোনো জাহাজের গড় আয়ু নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ২৫ বছর। সেই হিসেবে চট্টগ্রাম-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটক নিয়ে চলাচলকারী ‘বে ওয়ান ক্রুজ’ আয়ুষ্কাল হারিয়েছে অন্তত চার বছর আগে। কিন্তু ‘কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স’ লিমিটেড সেই জাহাজটিকে ঘষামাজা করে তথ্য গোপন করে প্রমোদতরী বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন– যাত্রীরা জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে জাহাজের লোকজন বন্দরে কথা বলে সহায়তা চাইলে তখন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের টাগবোট কাণ্ডারি-১০ ঘটনাস্থলে যায় এবং বে ওয়ান ক্রুজকে কুতুবদিয়া চ্যানেল থেকে টেনে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় ফিরিয়ে আনে।

এ ঘটনার ব্যাপারে জানতে বে-ওয়ান ক্রুজের ক্যাপ্টেন মোঃ সোহেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে উত্তেজিত হয়ে তিনি সকালের-সময়কে বলেন–বে ওয়ান ক্রুজ-এর ইঞ্জিনে আগুন লেগেছে আপনাকে কে বলেছে। ইঞ্জিনে আগুন লাগলে আমরা কাউকে ফিরিয়ে আনতে পারতাম না। যাত্রীদের অনীহার কারণে আমরা আর সেন্ট মার্টিন না গিয়ে জাহাজটি ফিরিয়ে এনেছি। ইঞ্জিন রুমে ফায়ার হওয়ার কারণে ধোঁয়া বের হয়েছিল বলে লাইন কেটে দেন।

দেখা যায়–’বে-ওয়ান ক্রুজ’ এই প্রমোদতরীটি মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন যেতে ভাড়া গুণতে হয় দুজনের ভিভিআইপি কেবিন ৬০ হাজার টাকা, দুজনের ভিআইপি কেবিন নরমাল ৪০ হাজার টাকা, ইকোনমি চেয়ারপ্রতি ভাড়া সর্বনিম্ন ৪ হাজার টাকা।

গত বছর ১৪ জানুয়ারি কর্ণফুলি শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রমোদতরী ‘বে ওয়ান ক্রুজ’ চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করে। ৪৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৫৫ ফুট প্রস্থের জাহাজটির উত্তাল সমুদ্রে চলার সক্ষমতা থাকলেও মেয়াদ চলে যাওয়ায় যাত্রীরা আতঙ্কে থাকেন। ঘণ্টায় ২৪ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম জাহাজটি এখন অকেজো হয়ে আসলেও ‘কর্ণফুলি শিপ বিল্ডার্স’ শুধু ঘষামাজা করে এখনো জাহাজটি চালাচ্ছে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে ২৫ বছরের পুরনো জাহাজ সাগরে ভাসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জাহাজটি ভাসানোর আগে গত বছর সংবাদ সম্মেলনে কর্ণফুলি শিপ বিল্ডার্রসের মালিক এম এ রশিদ বলেছিলেন, এই আইন শুধু আমাদের দেশে আছে। বিদেশে প্যাসেঞ্জার জাহাজ ৫৫-৬০ বছরের পুরনো হলেও চলে। কার্গো জাহাজ ২৫ বছরের পুরনো হলে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু প্যাসেঞ্জার জাহাজে সমস্যা হয় না। তাহলে কেন সেন্ট মার্টিন যাওয়ার পথে সাগরের মধ্যখানে এই প্রমোদতরীতে আগুন লেগে গেল এই প্রশ্ন ভ্রমন প্রিয় পর্যটকদের….।

প্রিয় পাঠক—প্রমোদতরী বে ওয়ান ক্রুজ-এর অনিয়ম নিয়ে আরও একটি প্রতিবেদন থাকছে আগামী পর্বে..চোখ রাখুন…।

এসএস/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ