দুই বছর পর হচ্ছে জব্বারের বলীখেলা, মেলাও চলবে ৩ দিন


১৬ এপ্রিল, ২০২২ ৪:০৬ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১২ বৈশাখ অর্থাৎ ২৫ এপ্রিল বলীখেলা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী। তবে এবার লালদীঘি মাঠে নয়, খেলা হবে মাঠের সামনের খোলা রাস্তায়। একইসঙ্গে বৈশাখী মেলাও হবে। তবে এবার মেলা হবে তিনদিন, ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

শনিবার সকালে নিজের বাসভবনে ‘আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও মেলা কমিটি’র সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সিটি মেয়র। ঘণ্টাখানেক বৈঠকের পর দুপুর ১২টায় খেলা ও মেলার ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে ১৩ এপ্রিল লালদীঘি মাঠ উন্মুক্ত না হওয়ায় খেলা ও মেলা হবে না বলে জানায় আয়োজক কমিটি। এ নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হলে মেয়র খেলা ও মেলা আয়োজনের দায়িত্ব নেন।

মেয়র বলেন, কয়েকদিন আগে একটা ঘোষণা এসেছিল, এবার নাকি আবদুল জব্বারের বলীখেলা হবে না। এটা জানার পর সবার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। অনেকে মোবাইলে সেই হতাশার কথা আমাকে জানান। তারা প্রশ্ন করেছেন, কেন বলীখেলা ও মেলা হবে না। এরপর আমি বললাম- মেলা অবশ্যই হবে। সেজন্য আয়োজক কমিটির সবাইকে ডেকে কথা বললাম। বৈঠকে মেলা ও খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১২ বৈশাখ বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত বলীখেলা হবে জেলা পরিষদ চত্বরে।

প্রতিবার ৫ দিনের জন্য ঐতিহ্যবাহী এ মেলার আয়োজন করা হলেও এবার তিন দিনের জন্য মেলা বসবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। তিনি বলেন, ২৪, ২৫ ও ২৬ এপ্রিল (১১,১২ ও ১৩ বৈশাখ) মেলাও হবে। আগে ৫ দিন মেলা বসতো, এবার রমজানের কারণে ৩ দিন বসবে। এবার খেলাও হবে, মেলাও হবে।

আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী জানান, মেয়র রেজাউলের ঘোষণার পরপরই ইতিমধ্যে বক্সিং মঞ্চের আদলে জব্বারের বলীখেলার আয়োজন করতে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থের একটি মঞ্চ তৈরি করা হবে। তার উপরে বালি বিছানো হবে। যার উচ্চতা থাকবে অনেকটাই বক্সিং মঞ্চের মতো।

ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি যুব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর কুস্তির প্রবর্তন করেছিলেন যা চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘বলীখেলা’ নামে পরিচিত। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সনের ১২ বৈশাখ নিজ নামে লালদীঘির মাঠে এই বলীখেলার সূচনা করেন তিনি।

সূচনার ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর লালদীঘির মাঠে ১২ বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয় বলীখেলা। বলীখেলার একদিন আগে-পরে তিনদিন ধরে লালদীঘির পাড়সহ আশপাশের এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে বসে মেলা। এ মেলায় গৃহস্থালী পণ্য থেকে শুরু করে নানা পণ্যের পসরা বসে। করোনার সংক্রমণের কারণে গত দুই বছর বলীখেলা ও মেলা আয়োজন সম্ভব হয়নি।

এসএস

0Shares

আরো সংবাদ