দশ হাজারের বেশি পণ্য বোঝাই কনটেইনার নিয়ে বিপাকে চট্টগ্রাম কাস্টমস


২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:০১ : পূর্বাহ্ণ

আইনি বাধা ও নানা জটিলতার কারণে নিলাম না হওয়া ১০ হাজারের বেশি পণ্য বোঝাই কনটেইনার নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। একই সঙ্গে নিলামে বিক্রি হওয়া আরও ৫৬৪ কনটেইনার পণ্যের ডেলিভারিও আটকা পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পণ্য ছাড় নিতে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে বাধ্য হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

আমদানিকারকের ছাড় না করা ২০ ফুট সাইজের ২ হাজার ৮৭৮ টিইইউএস এবং ৪০ ফুট সাইজের ৭ হাজার ৪৫৪ টিইইউএস কনটেইনারের পাশাপাশি ৬৯ হাজার ৮৬০ এলসিএল ও ৬ হাজার ৬৭ প্যাকেজ বাল্ক পণ্য এখন বন্দরের পাশাপাশি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। হাজার কোটি টাকা মূল্যের এসব পণ্য এখনো নিলামে বিক্রি করতে পারেনি কাস্টমস।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, এগুলা থাকার কারণে আমাদের অপারেশনটা সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না এবং বিভিন্ন রকম ঝুঁকি রয়ে গেছে। অনেক সময় দীর্ঘদিনের পুরোনো মালামাল বিভিন্ন রকম চুরির ঝুঁকি থাকে। আবার বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনা; যেমন অগ্নিঝুঁকিও থাকে।

মূলত মামলাসহ নানামুখী জটিলতায় বিদেশ থেকে আমদানি করা এসব পণ্য নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় করাতে পারেনি আমদানিকারক। আর নিয়ম অনুযায়ী এসব পণ্য নিলামে বিক্রি করার কথা। কিন্তু সেখানেও সৃষ্টি হয়েছে সংকট।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, নিলামে যাওয়ার পরে অনেক আমদানিকারক বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে নিলাম প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। এই কারণে একটা জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং এর মধ্যে একটা দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ হওয়ার কারণে অনেক পণ্যের মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, ১৫ থেকে ২০ বছর আগে আমদানি করা পণ্য আটকা পড়ে আছে নিলাম শেডে। মামলা এবং কেমিক্যাল টেস্টসহ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এসব পণ্য ছাড় না হওয়ায় গুণগত মান নষ্ট হয়ে গেছে এবং অনেক পণ্যই বিক্রির অযোগ্য। এমনকি নিলাম হওয়া পণ্যও ছাড় করানো যাচ্ছে না, আর এতে শত শত কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছে বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সর্বমোট ২ হাজার ১৫ কনটেইনার পণ্য নিলামের জন্য তোলা হলেও বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৭৩ কনটেইনার পণ্য। বিক্রি হওয়া পণ্যের মধ্যে মাত্র ৫০৯ কনটেইনার ডেলিভারি হলেও বাকি ৫৬৪ কনটেইনার পণ্য এখনো আটকে আছে।

কাস্টমস বিডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব চৌধুরী বলেন, বড় লটের বিশেষ কিছু খাদ্যপণ্য সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে নষ্ট হয়েছে। পরবর্তীতে পশু খাদ্য হিসেবে আমরা বিড করেছি, তাও ডেলিভারি হয়নি। এর দায়-দায়িত্ব কার?

এ পরিস্থিতিতে নিলামে গতি আনার পাশাপাশি বিক্রি হওয়া পণ্য ডেলিভারি জট কাটাতে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দিয়ে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে বাধ্য হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, নিলাম যাতে দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক হয় এবং সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে, সেই জন্যই এই গণবিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি না নিলে পণ্য এবং বিডারের জামানত দুই-ই রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এসএস/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ