টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢল, আতংকে সাধারণ মানুষ


১৫ জুলাই, ২০১৯ ৫:৪১ : অপরাহ্ণ

গত তিন দিনের টানা বর্ষণে চন্দনাইশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় শঙ্খনদের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদের পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করার আশংকা করা হচ্ছে। ফলে নদের উপকূলবর্তী দোহাজারী পৌরসভা, বৈলতলী, বরমা, বরকল, সাতবাড়িয়া, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন কালিয়াইশ, মাইঙ্গাপাড়া, ধর্মপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভয়াবহ বন্যা আতংকে রয়েছে।

উপজেলার নিম্নাঞ্চলসমূহের বিস্তীর্ণ বর্ষাকালীন সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে রয়েছে। এতে ক্ষেত নষ্ট হয়ে কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় আউশ ধানের বীজতলাও পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলার হাশিমপুর বড়পাড়া পাঠানীপুল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ডুবো ডুবো অবস্থায় রয়েছে।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় রাতে মহাসড়ক ডুবে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ সড়কগুলো ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন সোমবার (৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার দোহাজারী শঙ্খনদের তীরে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসায় শঙ্খনদের পানি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানির তীব্রতা বাড়ছে, ফলে যেকোনো মুহূর্তে পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। এতে পুরো উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে।

উপজেলা কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক নবাব আলী বলেন, ‘দোহাজারী পৌরসভার ঈদপুকুরিয়া, খানবাড়ি, উল্লাপাড়া, সরকারপাড়া, জামিজুরী, চাগাচর, লোকমানপাড়ার কয়েকশ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ এলাকায় প্রায় ৫০টিরও অধিক বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।’

এছাড়াও উপজেলার দোহাজারী রায়জোয়ারা, দিয়াকুল, কিল্লাপাড়া, জামিজুরী, পূর্ব দোহাজারী, হাশিমপুর, চন্দনাইশ পৌরসভা, বরকল, বরমা, কাঞ্চনাবাদ, জোয়ারা, ধোপাছড়ির, ছাপাছড়ি, শামুকছড়ি, ছিড়িংঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

শঙ্খনদের তীরে উৎপাদিত বর্ষাকালীন সবজি ঢেঁড়শ, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙা, চিচিংগা, করলা, তিত করলা, শসা, মুলা ও বেগুন ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। উপজেলার কোথাও কোথাও বিস্তীর্ণ আউশের বীজতলাও পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

মাটি নরম হওয়ায় উপজেলার অনেক স্থানে বড় বড় গাছও হেলে পড়েছে। কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রের একটি বিশাল আকাশী গাছ হেলে পড়ে বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি মৎস্য প্রকল্প ডুবে মাছ ভেসে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

শঙ্খচরের কৃষক মোস্তফা জামান জানান, ক্ষেতে পানি জমলে সবজি গাছ নষ্ট হয়ে যায়। ইতিমধ্যে নিম্নাঞ্চলের সবজি ক্ষেতগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে চরের উপরের ক্ষেতগুলোতে এখনো পানি পৌঁছেনি।

কৃষক মোহাম্মদ হাসান জানান, গত বন্যায় তার বিপুল পরিমাণ বরবটি ক্ষেত ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। এতে তার কমপক্ষে ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এখনও যেসব ক্ষেতে পানি পৌঁছেনি সেগুলোও ডুবে যাবে বলে জানান তিনি।

0Shares

আরো সংবাদ