চসিকের ডেত্থ সার্টিফিকেট ইনচার্জের দায়িত্বে অস্থায়ী দারোয়ান!


১৮ জুন, ২০২৩ ১:২৯ : অপরাহ্ণ

দীর্ঘ দুই বছর ধরে চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশনের মৃত্যু সনদ (ডেত্থ সার্টিফিকেট) বিভাগের ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করছেন জুয়েল নাগ নামক এক অস্থায়ী দারোয়ান। আর তার অধীনস্থ হয়ে তাকে কাজে সহযোগীতা করছেন একজন অফিস সহকারী ও পিয়ন। আর এই সুযোগে ডেত্থ সার্টিকেট বাণিজ্য করে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। গ্রামের বাড়ি পার্বত্য রাঙামাটি জেলার মাইনীতে কয়েকশত একর পাহাড়ি জমি কিনে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন ধরণের বাগান। চট্টগ্রামেও রয়েছে নামে-বেমানে সম্পদ।

তবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য এমন দুরবস্থার জানা ছিলনা বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। চসিকের এই কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখেন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান তথা প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনিই কাকে কোথায় কোন কাজে নিয়োগ করবেন সেসব তিনি তদারক করেন। তাই বলে এমন কি জনবল সংকটে পড়েছে যে, একজন ক্যাজুয়াল গার্ডকে ডেত্থ সার্টিফিকেট বিভাগের ইনচার্জের দায়িত্ব দিতে হবে। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি বলেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত দুই বছরধরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মৃত্যু নিবন্ধন ও সনদ (ডেত্থ সাটিফিকেট) বিভাগের ইনচার্জের দায়িত্বে রয়েছে সংস্থাটির অস্থায়ী দারোয়ান (গার্ড) জুয়েল নাগ। এই সময়ে এই বিভাগে বেশ কয়েকজন অফিস সহকারীকে এই বিভাগে অফিসিয়াল দায়িত্ব দিয়েও পরে রহস্যজনক কারণে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিভিন্ন অযুহাতে দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। আর এই সুযোগে অস্থায়ী দারোয়ান-পিয়নকে বাসিয়ে দিয়েছে একেকটি বিভাগে ইনচার্জ হিসেবে। বর্তমানে এসব দারোয়ান-পিয়নকে স্যার বলে সম্বোধন করতে হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।

চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনই নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড থেকে গড়ে ৪/৫টি করে মৃত্যু নিবন্ধন ও সনদের জন্য আবেদন আসে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড থেকে মৃত্যু সনদ ইস্যু করার নিয়ম রয়েছে। তবে ডেত্থ সার্টিফিকেট ইনচার্জ জুয়েল নাগের সাথে চুক্তিতে না গেলে সহজে কোনো সনদ মিলে না। প্রতিটি সনদ থেকে ৪/৫ হাজার টাকা করে নেন জুয়েল নাগ। আর ১৫/২০ বছর পূর্বের মৃত্যুর সনদ নিতে গেলে গুণতে হয় ২০/৩০ হাজার টাকা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সূত্র জানায়, জায়গাজমি বন্টন ও বিকিকিনিতে ওয়ারিস সনদ আবশ্যক। আর এই মৃত্যু সনদ ছাড়া কাউন্সিলররা ওয়ারিস সনদ ইস্যু করেন না। ৯০ দশক বা এর আগের মৃত্যু সনদ নিতে গেলে সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পড়তে হয় বলে সূত্রটি জানায়। আর এই সুযোগে জুয়েল নাগ ও সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেট মৃত্যু তদন্ত ছাড়া সনদ প্রদানে মোটা অংকের চুক্তিতে আসতে বাধ্য করেন।

এই বিষয়ে জানতে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের ডেত্থ সার্টিফিকেট বিভাগের ইনচার্জ জুয়েল নাগের মুঠোফোনে তিনি বলেন, দাদা আপনি অফিসে আসেন, এই বিষয়ে নিউজ করিয়েন না দাদা, আমি শুধু ডেত্থ সার্টিফিকেট রিসিভ করি, আমাকে ফাঁসির আসামি বানাইয়েন না, আমি এমএলএসএস দাদা, এমএলএসএস ডেত্থ সার্টিফিকেট দিতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পারে দাদা, কারণ আমি পিয়ন–তাই বলে লাইন কেটে দেন।

বিষয়টি জানার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সেলিম আকতার চৌধুরীর মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও বক্তব্য মেলেনি।

এসএস

0Shares

আরো সংবাদ