চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্টাফ নার্সদের ওপর শ্লীলতাহানি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন হাসপাতালের নার্সরা। এ ঘটনায় দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত রাত সাড়ে ৯টায় বিক্ষুব্ধ নার্স, ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকে বসেন হাসপাতাল প্রশাসন। এতে কলেজের অধ্যক্ষ সাহেনা আক্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান বলেন, বিক্ষুব্ধ নার্সদের বুঝানোর পর তারা আবারও কাজে যোগ দিয়েছেন। এতে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় কোনো সমস্যা হয়নি। অভিযোগ বিষয়ে কথা বলতে আমরা এখন সবাইকে নিয়ে বৈঠকে আছি। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নার্সরা অভিযোগ করে বলেন, এক নার্সকে শ্লীলতাহানি ও ওয়ার্ডবয়কে মারধর করেছে এক ইন্টার্ন চিকিৎসক। এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালে কর্মরত সব নার্স একজোট হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছি। দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন। তাই আমরা আবারও কাজে যোগ দিয়েছি। অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক চমেক ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নার্সরা।
এক নার্স বলেন–একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর স্বজনকে হাসপাতালে ভর্তির সময় দুইবার ফোন নম্বর জিজ্ঞেস করায় লাকি নামে এক নার্সের সঙ্গে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি নার্সের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। দুজন নার্সের সাথে হাতাহাতির একপর্যায়ে হামলা করে ওই চিকিৎসক।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, যে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটেছে সেখানে সীতাকুণ্ড বিষ্ফোরণের কোনো রোগী ভর্তি নেই। তাই সেখানে চিকিৎসা সেবায় কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কিন্তু তারা কেউ সাড়া দেননি।
সকালের-সময়/এমএফ