চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আইপিএলকে কেন্দ্র করে জুয়া খেলা নিয়ে ফারুক হত্যা মামলার পলাতক আসামি আলী হায়দারকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গত শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করা হলেও রোববার (৯ জুলাই) বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানায় র্যাব। আসামি আলী হায়দার হাটহাজারীর লালিয়ার হাট এলাকায় মো. নুরুন্নবীর ছেলে।
র্যাব-৭ জানায়, গত বছরের ৫ এপ্রিল রাতে হাটহাজারীর আমানবাজারের নাজিম কলোনীতে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে আইপিএলর খেলা দেখছিলেন নিহত ভিকটিম ফারুক। এই খেলা দেখা নিয়ে নিহত ভিকটিম ফারুক ও ফয়সালের মধ্যে পছন্দ-অপছন্দের দল সমর্থন নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ফয়সাল হালকা হতাহত হয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
পরে আনুমানিক ১ঘন্টা পর ফয়সাল তার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ ফারুকের উপর হামলা চালায়। সেখান থেকে আহত অবস্থায় ফারুক তার বাসায় পালিয়ে গেলেও ফয়সাল বাহিনী ফারুকের বাড়িতে দফায় দফায় গিয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে গুরুত্ব আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
এছাড়া ভিকটিম ফারুককে বাঁচাতে তার বোন জেসমিন আক্তার এগিয়ে আসলে তাকেও আঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক মারা যান। এ ঘটনায় নিহত ভিকটিম ফারুকের মা বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হাটহাজারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত র্যাব-৭-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মো. নূরুল আবছার বলেন, ঘটনার পর পর মামলার ২ নম্বর আসামি মঈন উদ্দিন চিশতীকে আটক করে র্যাব। পরে প্রধান আসামি ফয়সাল এবং ৩ নম্বর আসামি ফরহাদকে আটক করা হয়েছে। র্যার মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
এরই প্রেক্ষিতে আসামি আলী হায়দার নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামি আলী হায়দারকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাটহাজারী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এসএস