উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ায় দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসীদের রক্ষার দায়ে ৫৭ জন বিচারককে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ। বুধবার (১ জুন) স্থানীয় সময় বিকালে তাদের বরখাস্ত করা হয় বলে ব্রিটিশ মিডিয়া বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
টেলিভিশন বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ বলেছেন, দেশের জুডিশিয়ারি বিভাগকে শুদ্ধ করার জন্য বারংবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সংশ্লিষ্টদের বেশ কয়েকবার সতর্কও করা হয়েছে। তার এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার পরই সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বরখাস্তের ঘোষণা দিয়ে একটি সরকারি ডিক্রি জারি করা হয়।
সদ্য বরখাস্তকৃতদের মধ্যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সাবেক প্রধান ইউসুফ বাউজাকারের নামও রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট কায়েস এই কাউন্সিল ভেঙে দিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালের বিপ্লবের পর থেকে কাউন্সিলটি বিচারিক স্বাধীনতার গ্যারান্টর হিসেবে কাজ করছিল। বিতর্কিত এই পদক্ষেপের ফলে সাইদ বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ এসেছে।
গত জুলাই মাসে মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের অব্যবস্থাপনার জেরে সহিংস বিক্ষোভের পর তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন। এরপর স্থানীয় বিরোধী দলের নেতারা প্রেসিডেন্ট কায়েসের নেওয়া পদক্ষেপকে ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বিদ্যমান সংকট থেকে তিউনিসিয়াকে বাঁচাতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে তখন থেকেই তিনি ডিক্রি জারি করে দেশ শাসন করছেন। তার এমন পদক্ষেপের কারণে গোটা দেশে অর্থনৈতিক স্থবিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং দুর্নীতির কারণে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের কারণে জনগণের মধ্যে একের পর এক ক্ষোভও বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, ১০ বছর আগে তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্র, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। ভয়ংকর হয়ে উঠা সেই বিপ্লব পরবর্তীকালে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যা বর্তমানে আরব বসন্ত নামেও বেশ পরিচিত। বিপ্লবের এক দশক পরও তিউনিসিয়ার সেই অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
সূত্র–আল-জাজিরা