ইউক্রেনের রাস্তায় রাস্থায় ভয়ঙ্কর লড়াই–বহু হতাহতের শঙ্কা


১০ জুন, ২০২২ ৪:২০ : অপরাহ্ণ

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় সেভেরোদোনেতস্ক শহরে তীব্র লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। শহরটির অধিকাংশ এলাকা রুশ বাহিনীর হাতে চলে গেলেও বেশ কিছু এলাকায় ইউক্রেনীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। সেভেরোদোনেতস্ক কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ শহর। শুক্রবার বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

সেভেরোদোনেতস্কে আটকা ১০ হাজারের বেশি মানুষ’
লুহানস্কের আঞ্চলিক গভর্নর সেরহি হাইদাই টেলিগ্রামে লিখেছেন, শহরের ‘রাস্তায় ভয়ঙ্কর লড়াই’ চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শত্রুকে ক্লান্ত করছি। ইউক্রেনীয় বাহিনী এখনও লুহানস্কের আঞ্চলিক কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহর ও প্রতিবেশী লাইসিচানস্ক দখল সম্ভব হলে পুরো লুহানস্ক অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলের দিকে ফোকাস দিচ্ছে রাশিয়া।

হাইদাই বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, ইউক্রেনীয় সেনাদের শহরের উপকণ্ঠে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার সকালে বলেছে যে, রাশিয়া শহরের বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তার বাহিনী উত্তর ও দক্ষিণ থেকে বিস্তৃত এলাকা ঘেরাও করার প্রচেষ্টায় সামান্য অগ্রগতি করেছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। শুরুর দিকে দেশটির রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে থাকে রুশ বাহিনী। পরে কিয়েভের পাশ থেকে সেনাদের সরিয়ে নিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি ও হামলা বাড়াতে শুরু করে। ইতোমধ্যে দোনবাসের অধিকাংশ এলাকা ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতছাড়া হয়েছে।

চলমান যুদ্ধে দুই পক্ষেরই সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তবে ইউক্রেন বলছে, রুশ হামলায় তাদের বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ; অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও লাখ লাখ মানুষ।

ইতোমধ্যে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ রুশ বাহিনীর হাতে চলে গেছে। এরমধ্যে বন্দরনগরী মারিউপোল অন্যতম। এ শহরটির নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেনের হাতছাড়া হওয়াকে যুদ্ধে দেশটির বড় ধরনের হার হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরটিতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্টিল কারখানা। মারিউপোল দখলের পর প্রায় এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনাকে আটক করে রাশিয়া।

এসএস

0Shares

আরো সংবাদ