বিষয় :

সুবর্ণচরের সেই “ধর্ষক” রুহুল আমিনের জামিন প্রত্যাহার


২৩ মার্চ, ২০১৯ ১:৩২ : অপরাহ্ণ

সকালেরসময় রিপোর্ট:: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভোটের রাতে গণধর্ষণের ঘটনার প্রধান আসামি রুহুল আমিনকে দেয়া জামিন বাতিল করে এর আগে দেয়া আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন (রিকল) হাইকোর্ট। আসামি পক্ষের আইনজীবীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে শনিবার ছুটির দিনে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারকরা চেম্বারে বসে আগের আদেশ প্রত্যাহারের (রিকল) সিদ্ধান্ত জানান।

আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে মুক্তি মিলছে না বহিষ্কৃত এই আওয়ামী লীগ নেতার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে ধর্ষণের মামলার আসামি রুহুল আমিনকে গত সোমবার জামিন দিয়েছিল বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এর আগে গতকাল এ জামিনাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায়।

জামিন নিতে গিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বিভ্রান্ত করেছেন এমন অভিযোগ করে বিশ্বজিৎ রায় বলেন, জামিন আবেদনে উল্লেখ আছে এনএক্স-১৭ নম্বর কোর্টের কথা। অর্থাৎ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে আবেদনটি শুনানির জন্য ফাইল হয়েছে। ফলে আবেদনটির অনুলিপি গেছে ওই কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরে। যেদিন জামিন হয় সেদিন আসলে আমরা বুঝতেই পারিনি কার জামিন হয়েছে। পরে দেখা যায় এনএক্স কোর্ট ১৪ থেকে রুহুল আমিন জামিন নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী আশিক-ই রাসুল অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে মামলার যে কপি সরবরাহ করেছেন, তাতে হাইকোর্টের ১৪ নম্বর বেঞ্চ উল্লেখ না করে ১৭ নম্বর করেছেন। অথচ মামলা শুনানি হয়েছে ১৪ নম্বর বেঞ্চে। এখানে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের সময় বিরোধিতা করা যায়নি।
রুহুল আমিন সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও চর জুবলি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি মেম্বার ছিলেন। ঘটনার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ।

ধর্ষণের মামলা গত ৪ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং নোয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। বহুল আলোচিত সুবর্ণচরে গণধর্ষণ মামলার আসামী রুহুল আমিনের হাইকোর্টে জামিন পাওয়ার বিষয়ে বিশ্বজিৎ রায় বলেন, আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে বলেছেন যে, মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর)-এ আসামি রুহুল আমিনের নাম নেই। তা ছাড়া মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। এসব বিষয় তুলে ধরে জামিন চাওয়া হয়েছে।

আদালত আসামি রুহুল আমিনকে এক বছরের অন্তবর্তীকালীন জামিনের পাশাপাশি রুলও জারি করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় অভিযুক্ত আবেদনকারী মো: রুহুল আমিনের জামিন কেন বৃদ্ধি করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। এছাড়া আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিন রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়।

ধর্ষণের শিকার ওই নারীর অভিযোগ, ভোটের সময় নৌকার সমর্থকদের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘সাঙ্গপাঙ্গরা’ বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ভোটের পর রাতে এই ধর্ষণকাণ্ডে ব্যাপক আলোচনা ওঠে দেশজুড়ে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এ পর্যন্ত সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনসহ ১০ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ


You cannot copy content of this page