প্রতারণার দায়ে মার্শাল অ্যাগ্রোভেটের বিরুদ্ধে কাস্টমসের মামলা


২৪ আগস্ট, ২০২৩ ১১:৩৫ : অপরাহ্ণ

জাল লাইসেন্স দেখিয়ে জৈব কীটনাশক বিটিআই আমদানির অভিযোগে মার্শাল অ্যাগ্রোভেটের বিরুদ্ধে মামলা করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার শাকিলা সোলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরআগে, বুধবার রাতে চট্টগ্রামের বন্দর থানায় মামলাটি করেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. বাকিবিল্লাহ।

মামলায় আসামি করা হয়েছে, মার্শাল অ্যাগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক এম নাসিরউদ্দিন আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আলাউদ্দিন, সিএন্ডএফ এজেন্টস টিভোলি এন্টারপ্রাইজের মালিক বিশ্বনাথ কর্মকার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মো. জাকির হোসেন, শহিদুল ইসলাম এবং মার্শালের অজ্ঞাতনামা পরিচালকদের।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, মার্শাল অ্যাগ্রোভেট চীন থেকে পাঁচ টন ইনসেক্টিসাইড, ব্যাসিলাস থুরিংয়েইনসিস ইসরায়েলেনসিস ১২০০ আইটিইউ/এমজি ডব্লিউপি (বিটিআই) আমদানি করে। আমদানি করা পণ্য চালানটি খালাসের জন্য তার মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তাইবোলি এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে গত ২৬ জুলাই বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।

পরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কর্মী সরকার জাকির হোসেন ও শহিদুল ইসলাম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র কাস্টমসে দাখিল করেন। কাস্টমস হাউসের পক্ষ থেকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কীটনাশক আমদানির লাইসেন্সের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

গত ২২ অগাস্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের জবাবে কাস্টমসকে জানায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা আমদানি লাইসেন্সের সঙ্গে তাদের দপ্তরে সংরক্ষিত লাইসেন্সের গড়মিল আছে।মার্শাল অ্যাগ্রোভেটের জমা দেয়া নথিপত্রে তাদের ‘সার্টিফিকেট অব রেজিস্ট্রেশন অব পেস্টিসাইড’ সনদে লাইসেন্স টু এনেক্সার- এ এর ২৯ নম্বর ক্রমিকের বালাইনাশকটির নাম ‘বিটিআই’ দেখানো হয়।

কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে সংরক্ষিত মার্শাল অ্যাগ্রোভেটের সনদে লাইসেন্স টু এনেক্সার- এ এর ২৯ নম্বর ক্রমিকের বালাইনাশকটির নাম উল্লেখ আছে ‘কোরাডেক্স-৫০ এসপি’। এছাড়া যে তারিখে লাইসেন্স সইয়ের কপি তারা দেখিয়েছে, ওই সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক ছুটিতে ছিলেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার মো. বদরুজ্জামান মুন্সি বলেন, মার্শাল অ্যাগ্রোভেট যে সনদ জমা দিয়েছে, তা জাল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিষয়টি আমাদেরকে জানিয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি অবসরে যাওয়া কর্মকর্তার সই জাল করে এবং ভিন্ন কীটনাশকের নাম দিয়ে চালানটি খালাস নিয়েছে।

সকালের-সময়/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ