আত্মবিশ্বাসী প্রতিবন্ধি এক শানুর গল্প!


৯ এপ্রিল, ২০১৯ ৬:৫১ : অপরাহ্ণ

সকালেরসময় রিপোর্ট:: চট্টগ্রাম পটিয়া উপজেলার ভান্ডালগাওঁ গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম শানু বিশ্বাসের। জম্ম থেকেই সে শারিরীক প্রতিবন্ধি। পঙ্গু হয়েই পৃথিবীতে আগমন তার। কিন্ত শারিরীক প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি অদ্যম আর আত্মবিশ্বাসী শানুকে। দৃঢ় মনোবল নিয়ে নতুন উদ্যোমে দুই হাত ভর করে পঙ্গু শানু বিশ্বাস ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। শানুর স্বপ্ন বড় পরিসরে কিছু একটা করা।

উপজেলার ভান্ডালগাওঁ গ্রামের পুলিন বিশ্বাস ও লক্ষী বিশ্বাসের তিন ছেলে মেয়ের দ্বিতীয় শানু বিশ্বাস। দু’হাতের উপর ভর করে হুইল চেয়ারে পান সিগারেট বিক্রি করা শানুর সাথে কথা হয় আজকে চকবাজার আধুনিক চকসুপার মার্ককেটের সামনে। স্বল্পভাষী শানু মৃদু হেসে বলেন, দাদা নমস্কার! দাদা আমার জন্য আর্শিবাদ করবেন যাতে সাফল্যের সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। আমি দাদা মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। কারও বোঝা হয়ে বাঁচতে চাই না, নিজের পা’য়ে দাঁড়াতে চাই। আমি চাই না কেউ আমাকে করুনার চোখে দেখুক। সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই আমি।

কথা হয় শানুর মা লক্ষী বিশ্বাসের সাথে। তিনি বলেন, শানু জন্ম থেকেই শারিরীক প্রতিবন্ধী। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে শানু সাড়াদিন এই পান সিগারেট বিক্রি করে রাস্তায়। আমি এক হতবাগা মা শানুর পায়ে সমস্যা থাকায় দু’হাতের উপর ভর করে চলাফেরা করে সেই। ভাবতাম আমার ছেলেটা যদি শারীরিক ভাবে সুস্থ হতো তাহলে ওর জীবনটাই অন্যরকম হতো। তবে সবকিছুর পরেও তার অদম্য ইচ্ছা দেখে শত কষ্টের মাঝেও আনন্দ বুকটা ভরে যায় আমার।

শানুর মা থাকেন শহরের বাদুরতলার ভাড়া বাসায়। বাবাকে হারিয়েছে শানু ছোটবেলায়। মা চাকরি করেন সিএমবি একটা গার্মেন্টেসে। অল্প টাকায় ঘর ভাড়া দিয়ে ছোট মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় লক্ষী বিশ্বাসকে। শানু পান-সিগারেট বিক্রি করে যে টাকাটা আয় করে তাতে পরিবারের কোনো ব্যয় বহন করতে হয় না তার। সে নিজেই নিজের খরচ মেটাতে পারে। শানু বলেন, আমি কারো বুঝা হয়ে থাকতে চাইনা। মা অনেক কষ্ট করে আমাদের ভরনপোষণ চালান।

শানু বিশ্বাস বলেন, আমার মা’র বয়স হয়েছে আর কতদিন এভাবে চলবে। আমার ইচ্ছে একটি দোকান দেওয়ার। তাই আমি নাস্তার টাকা বাঁচিয়ে টাকা জমা করছি। জীবনে অনেক স্বপ্ন আমার, কি স্বপ্ন জানতে চাইলে! ছল ছল চোখে প্রতিবন্ধি শানু বলেন, আমার আবার স্বপ্ন! স্বপ্নতো অনেক দেখি দাদা, সেগুলো তো স্বপ্নই থেকে যায়।

প্রথমে আমি মোমবাতির কারখানায় কাজ করতাম, পরে পেরেক ফ্যাক্টরিতে কাজ করেছিলাম। কিন্তু নিজে কিছু করার অদম্য ইচ্ছা থেকে বন্ধুদের সহায়তায় পান-সিগারেটের দোকান নিয়ে বসছি। আমার স্বপ্ন আস্তে আস্তে বড় দোকান হবে তখন আর মাকে গার্মেন্টেসে কাজ করতে হবে না। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চকবাজার ঘুরে ঘুরে ভ্যানে বসে পান-সিগারেট বিক্রি করেন শানু। তবে রৌদে তার কোন সমস্যা হয় না। বৃষ্টি পড়লে একটু সমস্যা হলে সে দিনটায় তার বাসায় কাটাতে হয়। তার বর্তমান বয়স ছব্বিশ।

শানুর বন্ধুরা বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করি শানুকে সাহায্য-সহযোগিতা করার। সে কখনো ভিক্ষা করে না ওর ইচ্ছা প্রবল। সুস্থ সবল মানুষের শহরে সে বড়ই অসহায়। ভিক্ষার থালায় তার বাকি জীবনটা শেষ করার কথা থাকলেও সে তা ভিক্ষা করার কথা কখনো চিন্তাই করেনি। আশা করি সে সাফল্যর সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যাক এটায় আমাদের প্রত্যাশা।

0Shares

আরো সংবাদ