নতুন করে ইরানের অতর্কিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ২০টি ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র এবং ভিডিও বিশ্লেষণে বিবিসি ভেরিফাই শো এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায় ইরানি বাহিনী।
বিবিসি নিশ্চিত করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে প্রধান স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায় ইরান। এতে হাজার হাজার ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি বিমান এবং রাডারের ক্ষতি হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, গত তিন মাসে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার প্রতিশোধ নিতে তেহরান মার্কিন ঘাঁটি ও যৌথ সামরিক স্থাপনা উভয়কেই লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে বিবিসি ভেরিফাইয়ের এই রিপোর্ট নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা।
বিবিসি ভেরিফাই ইরানি হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করতে পুরোনো ছবির সঙ্গে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার স্যাটেলাইট চিত্র একত্রিত করে ব্যবহার করেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরান, জর্ডান, বাহরাইন এবং ওমানের মার্কিন ঘাঁটির ছবি বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি ভেরিফাই।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। সেখানে মার্কিন জ্বালানি এবং নজরদারি বিমান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে এসব বিমানের ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
এ ছাড়া কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং ক্যাম আরিফজানেও হামলা চালিয়েছে তেহরান। এসব হামলায় জ্বালানি ভাণ্ডার বাঙ্কার, বিমান হ্যাংগার এবং সেনাবাহিনীর থাকার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে।
বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরুর পর মার্কিন বাহিনীর এফ-১৫, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একটি এ-১০ আক্রমণকারী বিমানসহ অন্তত ৪২টি বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলায় তার বাহিনীর সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন ঘাঁটি আর নিরাপদ নয়। এদিকে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর পর থেকে ইরানে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
এসএস/এমএফ