মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তার কঠোর জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। বাহিনীটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়—বরং তেহরানই নির্ধারণ করবে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করতে গিয়ে ট্রাম্প এখন ‘ভুয়া সামরিক সাফল্যের গল্প’ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
নাঈনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অপমানজনক পরাজয়ের মুখোমুখি হওয়ার পর নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী দেখাতে নানা ধরনের প্রচার চালাচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো—এই সংঘাতের শেষ কীভাবে এবং কখন হবে, তা নির্ধারণ করবে ইরানই।
আইআরজিসি মুখপাত্র আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি দ্রুত ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “আমরা জানি তোমাদের গোলাবারুদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং তোমরা যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ট্রাম্প মার্কিন জনগণকে প্রকৃত পরিস্থিতি জানাচ্ছেন না।
নাঈনির দাবি, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন সেই বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এছাড়া ট্রাম্পের আরেকটি দাবিও তিনি নাকচ করেন—যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, বাস্তবে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো।
নাঈনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় এখন ইরান আরও বেশি সংখ্যায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। শুধু সংখ্যাই নয়, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের ওজনও এক টনের বেশি বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে জ্বালানি ইস্যুতেও কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে আইআরজিসি। নাঈনির ভাষায়, নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগ্রাসী দেশগুলো ও তাদের মিত্রদের কাছে অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি করতে দেবে না।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার যে চেষ্টা করা হচ্ছে, তা সাময়িক। শেষ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্যসূত্র—আল-জাজিরা