বিদায় বেলায় ১৪ জনকে পদায়ন করে কোটি টাকার বাণিজ্য চট্টগ্রাম খাদ্য নিয়ন্ত্রকের!


নিজস্ব প্রতিবেদক ২ এপ্রিল, ২০২৬ ২:০২ : পূর্বাহ্ণ

খুলনায় বদলির আদেশ হওয়া চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম কায়সার আলীর শেষ কার্যদিবস ছিল গত ৩০ মার্চ। বিদায় বেলায় তিনি ১৪ জনকে বিভিন্ন গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) হিসেবে পদায়ন করেন। ওইসব কর্মকর্তাকে পুরস্কার হিসেবে তিনি পদায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তোপের মুখে এ দিন রাতেই বাতিল করা হয় কর্মকর্তাদের পদায়ন আদেশ। বিষয়টি নিয়ে খাদ্য বিভাগে তোলপাড় চলছে। অর্থের বিনিময়ে বিদায় বেলায় খাদ্য নিয়ন্ত্রক এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম কায়সার আলীকে খুলনার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়। গত সোমবার (৩০ মার্চ) ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস। ওই দিন দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি ১৪ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) হিসেবে পদায়নের আদেশ দেন।

সূত্র জানায়, এসব পদায়নকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। সাধারণত এ ধরনের পদায়ন অফিসের ‘ডি নথি’র মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সরাসরি স্বাক্ষরে আদেশ জারি করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে খাদ্য বিভাগে আলোচনা শুরু হলে তা মন্ত্রণালয়ের নজরেও আসে। পরে গত সোমবার রাতেই ১৪ কর্মকর্তার পদায়ন আদেশ বাতিল করা হয়।

বাতিল হওয়া দপ্তরাদেশের কপি থেকে জানা গেছে, মোট ১৪টি স্মারকের মাধ্যমে পদায়ন আদেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে চারটি স্মারক গত সোমবার ইস্যু করা হয়। বাতিল হওয়া স্মারকগুলো হলো—২৮৬(ম), ২৮৮(ম), ২৮৯(ম), ২৯০(ম), ২৯১(ম), ২৯৩(ম), ২৯৪(ম), ২৯৫(ম), ২৯৬(ম), ২৯৭(ম), ৩১৫(ম), ৩১৬(ম), ৩১৭(ম) ও ৩১৮(ম)।

এ বিষয়ে সদ্য বিদায়ী চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম কায়সার আলী বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে ১৪ কর্মকর্তার পদায়ন আদেশ বাতিলের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, পদায়নগুলো নিয়ম অনুযায়ী করা হয়েছিল। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের অত্যন্ত আলোচিত একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এস এম কায়ছার আলী। চট্টগ্রামের আরসি ফুড পদে তাঁর দুই বছর পূর্ণ হয়েছে গত মার্চ মাসে। খাদ্য বিভাগের বদলি-পদায়নের নীতিমালা অনুযায়ী দুই বছর পূর্ণ হওয়ায় তখনই তাকে অন্যত্র বদলি করার কথা। কিন্তু বড় অংকের ঘুষের বিনিময়ে তিনি সেই পদেই বহাল থেকে যান।

গণমাধ্যমে এ নিয়ে লেখালেখি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে গত ১৭ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কায়ছার আলীকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়। এতে কায়ছার আলী অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তিনি চট্টগ্রাম ছেড়ে যেতে রাজি নন।

মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করতে অর্থ সংগ্রহের জন্য ব্যাপকহারে বদলি বাণিজ্যে নেমে পড়েন। দুই দিনে মাঠ পর্যায়ের প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তাকে তিনি বদলি ও পদায়ন করেন। সংগ্রহ করেন দুই কোটি টাকারও বেশি। এই টাকা তিনি মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা এবং সচিবকে দেন বলে চাউর হয়েছে। মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এটাই জানেন।

বদলি হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় সেই বদলির আদেশ বাতিল করেন মন্ত্রণালয়েরই একই কর্মকর্তা, উপসচিব জয়নাল মোল্লা। দুই কোটি টাকার বিনিময়ে বদলির আদেশটি বাতিল হয়েছে, এটা এখন সংশ্লিষ্ট অনেকেরই জানা।

সূত্র—এপি/এসএস/ফোরকান

0Shares

আরো সংবাদ