২১৪ কোটি টাকার কাজ এখনো শুরুই করতে পারেনি আবদুল মোনেম গ্রুপ!


সকালের-সময় রিপোর্ট  ১৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২:২২ : পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের দ্বিতীয় সার্ভিস এরিয়া নির্মাণে ২০১৯ সালের জুনে দায়িত্ব দেয়া হয় (এএমসি) আবদুল মোনেম কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে। এরপর দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও ২১৪ কোটি টাকা মূল্যের এ কাজটি এখনো শুরুই করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

কাজ শুরু করতে না পারার কারণ হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যাদেশ দিতে না পারা, জমি বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব এবং প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়ার ড্রইং-ডিজাইন একাধিকবার পরিবর্তন হওয়াকে দায়ী করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

যদিও অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে আবদুল মোনেম লিমিটেডের কর্ণধার আবদুল মোনেমের মৃত্যুর পর পুরো গ্রুপের কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে আসে। আবদুল মোনেমের উত্তরসূরিদের বিরোধের কারণে সৃষ্ট এ স্থবিরতার প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্পে।

এএমসি লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার গোলাম মর্তুজা বলেন, জমি বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব এবং প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়ার ড্রইং-ডিজাইন একাধিকবার পরিবর্তন হওয়াসহ নানা কারণে আমরা কাজ শুরু করতে পারিনি। বর্তমানে সার্ভিস অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের অনানুষ্ঠানিক সব ধরনের কাজ শেষ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে সার্ভিস এরিয়া নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। কাজ শুরু হলে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে শেষ হবে বলে জানান তিনি।

২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রথম নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ প্রকল্প কাজের উদ্বোধন হয়। এ প্রকল্পের প্রকৌশলী ও কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা হিসেবে কর্ণফুলীর দুই তীরে পতেঙ্গা ও আনোয়ারা প্রান্তে দুটি সার্ভিস এরিয়া নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে পতেঙ্গা প্রান্তের সার্ভিস এরিয়াটি নির্ধারিত সময়ে নির্মিত হলেও এখনো কাজ শুরুই হয়নি আনোয়ারা প্রান্তে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারা প্রান্তে টানেল প্রকল্পের দ্বিতীয় সার্ভিস এরিয়া নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে সর্বমোট ২৭০ কোটি টাকা। এর মূল অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স আবদুল মোনেম কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, যার মূল্য ২১৪ কোটি টাকা। সার্ভিস এরিয়ার এ সার্ভিস এরিয়ায় সর্বমোট ৩০টি কটেজ ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন, একটি সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

২০২২ সালে সার্ভিস এরিয়া নির্মাণ হলে তা প্রকল্পের কোনো কাজেই আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ একই বছরে পুরো প্রকল্পটিই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরে শেষ হয় কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের প্রথম টিউবের (চট্টগ্রাম প্রান্ত থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত) বোরিং কাজ। এরপর ১২ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় দ্বিতীয় টিউবের (আনোয়ারা প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত) বোরিং কাজ।

নভেম্বর শেষে প্রকল্পটির ভৌত কাজের অগ্রগতি ছিল ৬১ শতাংশ। এরপর গত দেড় মাসের কাজ হিসেবে নিলে কাজের অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। আর ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। দ্বিতীয় সার্ভিস এরিয়ার কাজও একই সময়ে শেষ হলে প্রায় ২৭০ কোটি টাকার এ অবকাঠামোর কোনো সুফল পাবে না প্রকল্পটি।

জানতে চাইলে সার্ভিস এরিয়ার কাজ এখন পর্যন্ত শুরু না হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন প্রকল্পটির পরিচালক হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, সার্ভিস এরিয়ার কাজ শুরু হয়নি এটা ঠিক নয়। সার্ভিস এরিয়ার কাজ শুরু না হলে প্রকল্পের দ্বিতীয় অংশের কাজ কীভাবে শুরু হয়েছে?

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে সার্ভিস এরিয়ার কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে জানানো হলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রকল্পের বিষয়ে যেকোনো তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব বিষয়ে কিছু জানে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সার্ভিস এরিয়ার কাজ শেষ হবে।

সূত্র: বিবি/এসএস/এমএফ

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ