বিষয় :

সেনাবহিনীর ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত..

সাত বছর কোমায় থাকা সেনা অফিসার পেলেন কর্নেল পদোন্নতি


সকালের-সময় রিপোর্ট  ১৬ অক্টোবর, ২০২০ ৩:৩১ : পূর্বাহ্ণ

সাত বছর কোমায় থেকেও পদোন্নতি। এমনই ঘটেছে সেনাবাহিনীর কর্নেল দেওয়ান মোহাম্মদ তাসওয়ার রাজার বেলায়। সিএমএইচে কোমায় থাকা অবস্থায় কর্নেল ব্যাজ পরিয়ে দেয়া হয় তাসওয়ার রাজাকে। এভাবেই সেনাবাহিনী সম্মানিত করল তার চৌকস এই কর্মকর্তাকে। যা বাংলাদেশ সেনাবহিনীর ইতিহাসে এক বিরল মানবিক দৃষ্টান্ত।

পরিবার বলছে, এই পুরস্কার তাদের আজীবন কৃতজ্ঞতার বাঁধনে আবদ্ধ করে রাখল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাজার কর্মের যোগ্য প্রতিদান দিয়েছে গর্বের সেনাবাহিনী। সদ্য পদোন্নতি পাওয়া কর্নেল দেওয়ান মোহাম্মদ তাসওয়ার রাজা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিং অব দা ব্যাটল আর্মার্ড কোরের একজন কর্মকর্তা।

২০১৩ সালের ১১ই মার্চ সেনাসদরে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চলে যান কোমায়। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কোমায় থাকা অবস্থাতেই বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু জ্ঞান ফেরেনি তাসওয়ার রাজার।

আবারও সিএমএইচে ৩১৪ নাম্বার কেবিনে নন্দকুঁজায় অতিক্রান্ত করেছেন সাতটি বছর। গত ১২ই অক্টোবর ঘটলো পদোন্নতির ঘটনা। হাসপাতালের বিছানাতে কোমায় তাসওয়ার রাজাকে সেনা পোষাকের কর্নেল ব্যাজ পড়িয়ে দিলে তখন এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

কর্নেল তাসওয়ার রাজার স্ত্রী মোসলেহা মুনিরা রাজা বলেন, প্রমসনের ঠিক একমাস আগে সে অসুস্থ হয়ে গেল। যার জন্য অনেক কষ্ট পেয়েছি একসময়। আমার স্বামীকে এত সম্মান দিয়েছে আর্মি আমি চিন্তাও করতে পারিনা। আমি কৃতজ্ঞ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাছে। সিএমএইচ তো আছেই।

তাসওয়ার রাজার চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ মজুমদার বলেন, উনার হার্টটা থেমে ছিল অনেক চেষ্টার পর লাইফ সাপোর্ট দিয়ে তা সচল করতে পেরেছি কিন্তু সে সময় ব্লাড পেসার ছিল না। আমরা তো সবসময়ই আশাবাদী থাকি বাকীটা আল্লার ভালো জানেন।

প্রখ্যাত মরমী কবি এবং বাউল শিল্পী হাসন রাজার বংশধর তাসওয়ার রাজা। সেনাবাহিনীতে তিনি এক বর্ণাঢ্য কর্মময় সময় কাটিয়ে ১২ই অক্টোবর অবসরে গেলেন।

লাইফ এন্ড ওয়ার্কস অব ম্যাজিস্টিক পয়েট হাসন রাজা ও জেনারেল মাই জেনারেল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোরের ইতিহাস ছাড়াও বাংলাদেশ আর্মার্ড কোর ও সেনাবাহিনী নিয়ে বেশ কিছু গবেষণাধর্মী বই লিখেছেন সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনরত থাকতেই।

সকালের-সময়/এমএফ

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ