শ্রীলংকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজাপাকসের জয়


সকালের-সময় ডেস্ক ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২:০০ : অপরাহ্ণ

শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাজিথ প্রেমাদাসাকে পরাজিত করেছেন।

রোববার গোতাবায়া রাজাপাকসের মুখপাত্র কেহেলিয়া রাম্বুকওয়েলা জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর আলজাজিরা ও এএফপির। ৭০ বছরের গোতাবায়া রাজাপক্ষে সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান। তামিল গেরিলাদের পরাস্ত করেন তিনি। ৩৭ বছর ধরে চলা বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধের অবসান ঘটান।

গোতাবায়ার মুখপাত্র কেহেলিয়া রাম্বুকওয়েলা এএফপিকে বলেন, আমরা ৫৩ থেকে ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছি। এটি পরিষ্কার জয়। এদিকে গোতাবায়ার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাজিথ প্রেমাদাসা (৫২) পেয়েছেন ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন প্রেমাদাসা।

তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী গোতাবায়াকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, জনগণের রায়কে সম্মান জানাচ্ছি। শ্রীলংকার সপ্তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়লাভ করায় গোতাবায়া রাজাপাকসেকে অভিনন্দন। এদিকে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে জনমনে ভয় ও আতঙ্ক ছিল আগে থেকেই। ছিল ভোট দেয়া নিয়ে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা।

শনিবার ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই মুসলিম ভোটারদের বহনকারী শতাধিক বাসের বহরে হামলা চালানো হয়। ভোটারভর্তি বাস লক্ষ্য করে অতর্কিত এলোপাতাড়ি গুলি চালায় বন্দুকধারীরা। বৃষ্টির মতো ছোড়ে পাথর। রাস্তায় জ্বালিয়ে দেয় টায়ার। কেউ হতাহত না হলেও এ ঘটনায় মুহূর্তেই মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় ফিরতে চেয়েছিল রাজাপাকসের পরিবার। সেই লক্ষ্যেই বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে। উদ্দেশ্য- সংখ্যাগুরু সিংহলি ভোটারদের ভোটে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা।

এবারের নির্বাচনের শুরু থেকেই জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে জাতিগত ঘৃণা ছড়িয়েছেন বিরোধী প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছোটভাই ‘স্ট্রংম্যান’খ্যাত গোতাবায়া রাজাপাকসে। মুসলিম ভোটারদের ওপর বন্দুক হামলা তারই ফল।

শনিবার ৭টায় শুরু হয় শ্রীলংকার অষ্টম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ১ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের জন্য ২২টি নির্বাচনী জেলায় খোলা হয় প্রায় ১৩ হাজার ভোটকেন্দ্র। ভোটগ্রহণে ব্যবহার হয়েছে ২৬ ইঞ্চি লম্বা ব্যালট পেপার।

দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে এবারই প্রথম এতবড় ব্যালট ব্যবহার করল নির্বাচন কমিশন। আরেক রেকর্ড হলো, ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর কেউই এবার প্রার্থী হননি।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ