শঙ্খনদীতে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার, ধরা-ছোঁয়ার বাইরে দুষ্কৃতকারীরা!


সকালের-সময় রিপোর্ট  ১৯ নভেম্বর, ২০২০ ১১:৩৯ : অপরাহ্ণ

বোয়াল, কোরাল, চিংড়ি, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন মাছে ভরপুর থাকে শঙ্খনদী। কিন্তু শীতের শুকনো মৌসুমে নদীতে পানি কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু দুষ্কৃতকারী শঙ্খনদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করছে। প্রতি শীত মৌসুমে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানায়, বছরের পর বছর এভাবে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে দুষ্কৃতকারীরা।

জানা গেছে, মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গত ১০ দিন ধরে উপজেলার ধোপাছড়ি, লালুটিয়া, দিয়াকুল, দোহাজারী, চাগাচর, সাতকানিয়ার বাজালিয়া, পুরানগড়, ধর্মপুরসহ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিষ প্রয়োগ করেছে দুষ্কৃতকারীরা। রাতভর মাছ শিকার করে ভোরের আলো ফুটতেই পালিয়ে যায় তারা।

এরপর সকালে দেখা যায়, নদীতে মরা মাছ ভেসে যাওয়ার দৃশ্য। বিষের প্রভাব যতদূর যায়, ততদূর এ দৃশ্য চোখে পড়ে। এরপর ভেসে যাওয়া মাছ ধরতে ঢল নামে নদী উপকূলবর্তী শিশু-কিশোরসহ হাজারো মানুষের। তারা হাতা জাল, ঠেলা জাল, চালুনিসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে মাছ ধরতে নেমে পড়েন। গত রোববার দুপুরে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায় স্কুল ছাত্র মো. রাকিব (১৬)। তার বাড়ি সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকায়।

সাতকানিয়ার কাটগড় এলাকার জেলে বলরাম জলদাশ। তিনি জানান, একসময় অসংখ্য প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত শঙ্খনদীতে। বর্তমানে শুধু কয়েক প্রজাতির মাছ টিকে রয়েছে। তার আশঙ্কা, যেভাবে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের ঘটনা ঘটছে, তাতে অচিরেই এসব মাছও হারিয়ে যাবে। ধোপাছড়ির চিরিংঘাটা এলাকার আমিনুল ইসলাম বলেন, এখনো শীত মৌসুম পুরোপুরি শুরু হয়নি। এর মধ্যেই ১০ বারের বেশি বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

এ ধরনের অপরাধে যারা জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শক্সখনদী সাতকানিয়া ও চন্দনাইশের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এক্ষেত্রে দুই উপজেলার মৎস্য অফিস থেকে উদ্যোগ নিতে হবে।

চন্দনাইশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দীন চৌধুরী বলেন, নদীতে বিষ প্রয়োগের খবর পেয়ে ইতোমধ্যে জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ আমরা দিয়াকুল এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে স্থানীয়রা বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে মাছ ধরছিলেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় জেলেরা বিষ প্রয়োগকারীদের ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। স্ব-স্ব এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে এলে দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। বেশি দুর্গম এলাকা হওয়ায় ওইসব স্থানে আইন প্রয়োগ করাটা কঠিন। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে চন্দনাইশ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।

সকালের-সময়/এমএফ

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ