বিষয় :

একনেকে ৫ প্রকল্প অনুমোদন..

রাস্তা-সেতু-কালভার্ট নির্মাণে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


সকালের-সময় রিপোর্ট  ১৮ নভেম্বর, ২০২০ ১২:০৬ : অপরাহ্ণ

গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে সরকারি অর্থ ব্যয়ে দেশজুড়ে যেসব রাস্তা-সেতু-কালভার্ট তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলোর মান ঠিক থাকছে কিনা সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করতে বলেন তিনি। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সভাকক্ষে একনেক অনুষ্ঠিত এ সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ সভায় ৭ হাজার ৫০৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৭ হাজার ৪২৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা সচিব মো. আসাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কথা বলেছেন, কোন রাস্তা কত রাস্তা কোথায় করা হবে সে বিষয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান চেয়েছেন। ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ আরো কয়েকটি মন্ত্রণালয় গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করলেও প্রধানমন্ত্রী মূলত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এ নির্দেশনা দিয়েছেন।

পরিকল্পনা সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেক সভায় ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুততম সময়ে সড়ক পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্টদের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে বলেন, যাতে কোনোভাবে ওভারল্যাপিং না হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নদীভাঙন রোধের প্রধান কৌশল হতে হবে পানির স্রোত বা প্রবাহ ধরে রাখা। এর জন্য নদী খননের মাধ্যমে নাব্যতা বজায় রাখতে হবে। কোনো কারণে যেন পানির স্রোত কোথাও বন্ধ না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে মনোযোগ দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

গতকাল একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যমুনা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলাধীন কাতলামারী ও সাঘাটা উপজেলাধীন গোবিন্দি এবং হলদিয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প; খুলনা সিটি করপোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প এবং শেখ হাসিনা সাংস্কৃতিক পল্লী নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবকাঠামো পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে ৫ হাজার ৯০৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে যে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে তার পুরো অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে। ডিসেম্বর ২০২৩ মেয়াদে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। দেশের ৫৫ জেলার ৩৫৫টি উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পের আওতায় ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট পুনর্বাসনের মাধ্যমে পল্লী সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সংরক্ষণ করা হবে।

এর মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় ও সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের বাজারজাত সহজ হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ২ হাজার ২৭৪ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ১ হাজার ৫৩৪ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক ও ৭৮ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক পুনর্বাসন এবং ৪ হাজার ৬৩১ দশমিক ৮৫ মিটার ব্রিজ ও ৬৯২ মিটার কালভার্ট পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি ৩২৮ কিলোমিটার এলাকায় বৃক্ষ রোপণ করা হবে।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ