আওয়ামীলীগ হীরার টুকরো, যতবার ভেঙেছে জ্যোতি ছড়িয়েছে: প্রধানমন্ত্রী


সকালের-সময় রিপোর্ট  ২৪ জুন, ২০২১ ১২:৩৩ : পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা দেশটাকে সুন্দরভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন। তিনি তো পারেন নাই করতে, তাকে তো করতে দেওয়া হল না। তার সেই অসমাপ্ত কাজ আওয়ামী লীগকেই সমাপ্ত করতে হবে। এ জন্য আওয়ামী লীগকে সব সময় সচেতন থাকতে হবে, জনগণের পাশে থাকতে হবে, সুখে, দুঃখে সাথী হতে হবে। এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

বুধবার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবনে থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিল, বাংলাদেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ও চিন্তা, সেটা কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। সেটাকে ব্যর্থ করার চেষ্টা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নাম মুছতে চেষ্টা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ যখন সৃষ্টি হয়, তখন থেকেই মুসলিম লীগ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, ‘আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ এবং খালেদা জিয়া প্রত্যেকে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছেন। কত মানুষকে তারা হত্যা করেছেন? লক্ষ্য একটাই আওয়ামী লীগকে শেষ করা। কেন? আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে গরিব দুঃখী মানুষের পেটের ভাত হয়, মাথাগোঁজার ঠাঁই পায়, চিকিৎসা পায়, লেখাপড়ার সুযোগ পায়। এটা বোধহয় কিছু শ্রেণির পছন্দ না’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেছে আওয়ামী লীগ। অনেক চড়াই-উৎপাই পার করেছে। অনেক বন্ধুর পথ অতিক্রম করেছে। আজকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলে বাংলাদেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার সুযোগ আছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে তারা আবার ভূলুণ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, এই সংগঠন মাটি ও মানুষ থেকে উঠে এসেছে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে মুসলিম লীগ সরকারের বিরোধিতা করে এ সংগঠন গড়ে উঠেছে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সেই সংগঠনকে এতো সহজে শেষ করে দেয়া যায় না। সাময়িক আঘাত আসে, এটা ঠিক।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভেতরের লোকেরাও দলের ক্ষতি করেছে। বহুবার আওয়ামী লীগ ভেঙেছে। মওলানা ভাসানী, ড. কামাল, আবদুর রাজ্জাকরা চলে গিয়ে নতুন দল করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ তো হীরার টুকরো, যতবার ভেঙেছে আরও জ্বলজ্বল করেছে, নতুনভাবে জ্যোতি ছড়িয়েছে।

দলকে তৃণমূল থেকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার উপর জোর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘৭২ বছর আওয়ামী লীগের বয়স হল। এই সাব কন্টিনেন্টের সব থেকে প্রবীণ পার্টি। এই দলই পারবে এদেশে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে।

এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর যেন কখনও কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য অতন্দ্র প্রহরীর মতো বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকবে আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা নেতা-কর্মী, সেটাই আমি চাই। এদেশের মানুষের ভাগ্য যেন আমরা পরিবর্তন করে দিয়ে যেতে পারি, সেইভাবেই সবাই কাজ করবেন।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, শাজাহান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ