ভারতের বাজারে পেঁয়াজের ধস!


সকালের-সময় রিপোর্ট ১ নভেম্বর, ২০১৯ ১:৪৩ : অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে পেঁয়াজের মূল্য যখন আকাশচুম্বী তখন ভারতে পেঁয়াজের বাজারে ধস নেমেছে। পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য না পাচ্ছেন না বলে সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১৪৫ থেকে ১৬০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে সেখানে ভারতের কেজিপ্রতি পণ্যটি ৬ থেকে ১০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশি মূদ্রায় ১২ টাকাও পড়ছে না প্রতিকেজি পেঁয়াজের মূল্য। বুধবার দেশটির লাসাগাঁও অনলাইন মার্কেটে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১০ রুপি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ভারতীয়রা বলছে, এতো কমদামে এর আগে কখনও পেঁয়াজ বিক্রি হয়নি ভারতে। এটাই ভারতে পেঁয়াজের সর্বনিম্ম দর।

পেঁয়াজের দাম এমন পানির দরে চলে আসায় বিপুল পরিমাণে লোকসানে পড়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
এমন দরপতনের জন্য সম্প্রতি চলমান পেঁয়াজ রফতানি নিষেধাজ্ঞাকে দুষছেন তারা।

পেঁয়াজের দামে হুট করে ধস নামার পেছনের কারণ হিসেবে তাদের অভিযোগ, পেঁয়াজ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় স্থানীয় বাজারের পেঁয়াজ কোথাও যেতে পারছে না। তাই এমন ধস নেমেছে মসলাটির দামে। তাই পেঁয়াজ রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন দেশটির কৃষকরা।

ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, ইতিমধ্যে কৃষকদের আন্দোলনে কর্ণাটকে উৎপাদিত পেঁয়াজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত। এ বিষয়ে দেশটির হর্টিকালচার কমিশনারের অনুমতি মিলেছে কৃষকদের।

গত ২৮ অক্টোবর থেকে চেন্নাই সমুদ্রবন্দর দিয়ে প্রতি চালানে সর্বোচ্চ ৯ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ রফতানি করছেন কর্নাটকের কৃষকরা। কর্ণাটকের পাশাপাশি কলকাতার ব্যবসায়ীরাও পেঁয়াজ রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে তাদের রাজ্য সরকারকে চাপ দিচ্ছেন।

তারা বলছেন, এখন আর পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ দেখছি না আমরা। মহারাষ্ট্রে নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে। পেঁয়াজের বাজারে ধস নেমেছে। আমরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।

প্রসঙ্গত গত ২৯ সেপ্টেম্বর এক আদেশে পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। এর পর থেকেই বাংলাদেশে পণ্যটির দাম দফায় দফায় বাড়তে থাকে। নিম্মমধ্যবিত্তদের ক্রয়ের নাগালের বাইরে চলে যায়।

গতকাল পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১২৩ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ