পূর্ব রেলে বাসা বরাদ্দ নিয়ে ফকির মহিউদ্দিনের দূর্নীতি, নিরব কর্তৃপক্ষ!


মোহাম্মদ ফোরকান ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:৩২ : অপরাহ্ণ

রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা দেওয়ার জন্য বিট্রিশ আমল থেকেই রেলওয়ে কলোনিগুলো গড়ে উঠে। রেলওয়ে কলোনির পরিবেশ ছিল খুবই সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর, তবে ইদানীং কালে রেলের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দখলে নষ্ট হয়ে পড়েছে রেল কলোনির পরিবেশ। তবুও রেলের বাসার কদর রেল কর্মচারীদের কাছে আলাদিনের চেরাগের মতো। কারণ! এই বাসাগুলোতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করার একমাত্র সম্বল তাদের।

জানা যায়, পাহাড়তলী সেগুনবাগান রেঞ্জ রোডের ১৭৩/বি একটি বাসাসহ আরও অসংখ্য বাসা বরাদ্দ নিয়ে দূর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে বাসা বরাদ্দ কমিটি ও পূর্ব রেলের উর্দ্ধতন এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। উক্ত বাসাটি নিজেদের নামে বরাদ্দের জন্য পাহাড়তলী কারখানা ও মেকানিক্যাল বিভাগের ১৭ জন আবেদন করেন।

আইন অনুযায়ী রেলের বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয় বেতনের বেসিক ও চাকুরীর বয়স হিসেবে সিনিয়র কর্মচারীদের যাদের নামে অন্য কোন বাসা বরাদ্দ নেই। কিন্তু! উক্ত আইন অমান্য করে বিপুল অঙ্কের ঘুষ নিয়ে বাসাটি বরাদ্দ দেন কম বেসিকের একজন জুনিয়র কর্মচারীর নামে, যার কারণে রেল পাড়া ঘিরে অনেক সিনিয়র কর্মচারীর মাঝে চরম ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে।

আরও জানা যায়, বাসা বরাদ্দ কমিটিতে ছিলেন, মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা এ ডব্লিউ এম/কারখানা (আহ্বায়ক), হযরত আলী এও/কারখানা (সদস্য) সহ আরও কয়েকজন।

এ বিষয়ে বাসা বরাদ্দ কমিটির এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা সিএমই জনাব মোঃ এফ এম মহিউদ্দিনের সুপারিশে বাসাটি জুনিয়র কর্মচারী নাজমুল হোসেন মিল্কির নামে দিতে তারা বাধ্য হন। তারা অনুরোধ করেন এই কথা যেন অন্যান্য স্যাররা কোনভাবেই না জানেন।

জানা যায়, এফ এম মহিউদ্দিন এর নামে এর আগেও কয়েকটি বাসা নিয়মবহির্ভূত বরাদ্দের অভিযোগ পাওয়া গেছে, রেলওয়ে টিপিপি কলোনীর বাসা নং ৮২২/বি বাসাটি তার আপন ভাগিনি স্টোর মুন্সি জাকিয়ার নামে বরাদ্দ দেন তিনি, এই বাসাটি বরাদ্দের জন্য সিনিয়র একজন এসএসএই লেভেলের কর্মকর্তাও আবেদন করেছিলেন।

সূত্র আরও জানায়, পাহাড়তলী কারখানায় বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক থাকাকালীন সময়ে বরিশাল বিভাগীয় সমিতির কর্মচারীদের বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এফ এম মহিউদ্দিন বরিশাল বিভাগীয় সমিতির আহব্বায়ক হওয়াতে বরিশাল অঞ্চলের কর্মচারীরা আলাদা সুবিধা পেয়ে থাকতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আবেদনকারী বলেন, আমরা অনেক মন্ত্রী /এমপির সুপারিশ নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু বাসা বরাদ্দ কমিটি ও ফকির মহিউদ্দিন মোটা অঙ্কের ঘুষ খেয়ে জুনিয়র এক কর্মচারী নাজমুল হোসেন মিল্কির নামে বরাদ্দ দিয়েছে যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অভিযোগের ব্যাপারে জানার জন্য মোঠোফোনে বেশ কয়েকবার এফ এম মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিব করেন নি। এবং সাংবাদিক পরিচয়ে এসএমএস দেওয়ার পরও তিনি কল রিপ্লে দেয়নি।

এ ব্যপারে পূর্বাঞ্চ রেলের (জিএম) সরদার সাহাদাত আলীর সাথে মোঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের-সময়কে জানান, আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা, যদি বলতে হয় তাহলে ফাইল-পত্র দেখে বলতে হবে। বাসা বরাদ্দ নিয়ে যদি কেউও দুর্নীতি করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  নেওয়া হবে।

প্রিয় পাঠক, আগামী পর্বে এফ এম মহিউদ্দিনের আরও দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, চোঁখ রাখুন… 

এসএস/এমএফ

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ